গত বছরের ১৫ই অক্টোবর বিএনপির সহযোগী ছাত্রসংগঠন ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান রাজিব আহসান। এই কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রাখা হয় মো. আকরামুল হাসানকে।
তারপর থেকেই মূলত গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে আত্মগোপনে চলে যান তারা।
রাজধানীতে বাস পোড়ানোসহ অর্ধশতাধিক মামলার আসামি রাজিব আহসান। এসব মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। রোববার রাতে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
পুলিশের দাবি, তার কাছে ইয়াবাসহ মাদকদ্রব্য পাওয়া গেছে।
ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি নির্বাচনের সময় প্রচারণা চালাতে গিয়ে একাধিকবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে হয় বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে।
ওই সময় রাজিবকে চেয়ারপাসনের গাড়িবহরের সাথেই দেখা গেছে। এমনকি হামলার হাত থেকে খালেদা জিয়াকে রক্ষায় বড় ভূমিকাও পালন করেছেন তিনি।
তারপর থেকেই মূলত আত্মগোপনে চলে যান রাজিব। তার ফেসবুক পেজেও শেষ পোস্ট ছিলো ২৯ এপ্রিল। সিটি করপোরেশ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের সংবাদ সম্মেলন।
এরপর থেকে গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে তিনি ফেসবুক ব্যবহার করতেন না। বন্ধ পাওয়া যায় তার ব্যবহৃত প্রত্যেকটি মোবাইল নম্বর। পুলিশের ধারণা দীর্ঘদিন ধরে টুয়াখালীতে আত্মগোপন করে ছিলেন ছাত্রদলের এই শীর্ষ নেতা।
সরকার হটাতে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের লাগাতার সহিংস হরতাল-অবরোধে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি বিএনপির এই সহযোগী সংগঠনটি। এ নিয়ে বিএনপিতে কঠোর সমালোচনাও রয়েছে।
বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারকে হটাতে বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে দলটির ছাত্রনেতাদের ব্যর্থতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। তেমন কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয় বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামের মূল শক্তি হিসেবে বিবেচিত এ ছাত্র সংগঠনটির নেতারা।
২০১২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর দীর্ঘ বিরতির পর আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েলকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি এবং হাবিবুর রশিদ হাবিবকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিলো। তবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার অভিযানের মুখে আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা রাখতে পারেনি ওই কমিটি।
জুয়েল-হাবিবের ব্যর্থতায় ছাত্রদলকে নতুনভাবে সংগঠিত করতে দায়িত্ব দেওয়া হয় রাজিব-আকরামকে।







