২০১৫ সাল। বছর জুড়ে ৩৬৫টি দিন। প্রতিটি দিনই একটি করে সেরা ছবি প্রকাশ করেছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক পত্রিকা। বছর শেষে এসে সেসবের মধ্যে থেকে সেরা বিশ ছবি আবার নির্বাচন করলেন তারা।
ছবির সঙ্গে সেই ছবির একটুখানি গল্প। সারাবছর ধরে প্রচারিত শত শত ছবির মধ্যে এই বিশ ছবি সবচেয়ে বেশি কমেন্ট, লাইক ও শেয়ার করেছেন পাঠক। বছর শেষে সেসবই আবার একত্রিত করেছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক।
১. এই পোষ্টের কভারে ব্যবহ্নত দু’ভাগ হয়ে ভেঙে যাওয়া ভূপৃষ্ঠের ছবিটি তোলেন অ্যালেক্সি ট্রফিমভ। লেক বৈকালে জমে থাকা বরফ ভেঙে গিয়ে এমন একটি অসাধারণ কিন্তু অদৃষ্টপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। সেটি ফ্রেমবন্দী করতে মোটেও ভুল করেননি ট্রফিমভ।
২. হাঙ্গেরির এই পটে আঁকা ছবির মতো গ্রামটির ছবি তোলেন গ্যাবর ডিভরনিক। এই গ্রামটি থেকে কয়েক মাইল দূরেই বাস করতেন তিনি। প্রত্যেকটি ঋতুতে যেন ভিন্ন ভিন্ন রূপ পেত গ্রামটি। তবে এমন মেঘে ঢাকা প্রতিচ্ছবিমূলক দৃশ্য সুন্দরভাবে ফেমবন্দী করতে সফল হন তিনিই।
৩. পেঙ্গুইনরাও তাহলে আক্রমণ করে! সাতদিন ব্যাপি অ্যান্টার্কটিকায় পেঙ্গুইনদের নিয়েই গবেষণা করছিলেন ফটোগ্রাফার ক্লিনটন বেরি। তখনই হঠাৎ এই ছবিটা তুলতে সক্ষম হন তিনি। সবমিলিয়ে ৬০টি মতো পেঙ্গুইন ছিলো সেখানে। ছবিটার জন্য অবশ্য ভাগ্যকেও খানিকটা কৃতিত্ব দেন বেরি।
৪. বাতাসের বিরুদ্ধে পেঁচার এই ছবিটি তোলেন ডমনিক রয়। কানাডার কুইবেক শহরে বরফের মধ্যে পড়ে বাতাসে ভেসে আসা নানান উপাদানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে পেঁচাটি।
৫. আন্ডারওয়াটার ফটোগ্রাফার ল্যান ম্যাকলিস্টারের ক্যামেরাকেই মাছ মনে করে এগিয়ে এসেছে প্রাণীটি। কানাডার কলম্বিয়া উপকূলে তোলা হয় ছবিটি।
৬. ছবিটি তোলার সময় ফটোগ্রাফার সেজারি উইজিনসকির মনে হয়েছিলো ইঁদুরটি যেন বের হয়ে এসে ভাবছে, কে ডাকে আমার দরজায়?
৭. শরৎকালে ঝরনার এই ছবিটি ক্রোয়েশিয়ার প্লিটিভাইস লেক ন্যাশনাল পার্ক থেকে তোলা। বহু পুরনো এই লেকে থাকা ঝরনা দিনব্যাপি নানানভাবে রঙ পরিবর্তন করে। ছবিটি তোলেন ফটোগ্রাফার ভেদরানা ট্রাফ্রা।
৮. ‘ভেসে থাকা আলোকরশ্মির ছবি দেখে মোটেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি’- ইরানের বিয়াওলুমিনাস লেক থেকে ছবিটি তোলার পর এমন কথাই বলেন পার্সিয়ান গালফ।
৯. বনের মাতা মাদাগাস্কার। সেখানে থাকা বোয়াবাব গাছগুলো ৪০০ বছরের পুরনো। সাপ, মৌমাছি, বাঁদুর থেকে শুরু করে মানুষ কি বাস করেনা সেখানে? আর এই বন পানির অফুরন্ত ভাণ্ডারও বটে। মাদাগাস্কারের ছবিটি তোলেন মার্সেল ভ্যান ওসটেন।
১০. ইটালীর গ্রান্ড প্যারাডিসো ন্যাশনাল পার্কে হঠাৎ এই শিয়ালটি খুঁজে পান ফটোগ্রাফার স্টেফানো আন্টারথিনার।
১১. সূর্যের আলো থেকে নির্গত চার্জ হওয়া উপাদান এবং পৃথিবীর আবহাওয়া থেকে নির্গত গ্যাসীয় উপাদানে তৈরি এই আলোকপ্রস্থ দেখে মনে হচ্ছে যেন চাঁদের সঙ্গে নৃত্য করছে। অ্যান্ড্রু জর্জ আইসল্যান্ডে এই ছবিটি তোলেন।
১২. এই ছবিটিও ইটালীর গ্রান্ড প্যারাডিসো ন্যাশনাল পার্কে তোলা। আর ফটোগ্রাফার যথারীতি স্টেফানো আন্টারথিনার। শীতের সাদা।
১৩. সদ্য জন্মানো তিমি। তবু আকারে একজন মানুষের চেয়ে তিনগুণ বড়। তাই করিম ইলিয়া ছবিটির নামই দিলেন ‘বিগ বেবি’। টঙ্গাতে পানির নিচে এই ছবিটি তোলেন তিনি।
১৪. মাছের খাদ্যদাতা। চীনের জিনপিঙে ছবিটি তোলেন আবদেরাজাক তিসৌকাই। জিনপিংকে সবচেয়ে সুন্দর দেশ মনে করেন ফটোগ্রাফার। প্রকৃতি আর ঐতিহ্যবাহী মানুষের অদ্ভূত মিশেল।
১৫. কোনো এক বিকেলে মা শিয়াল তার বাচ্চাদের রেখে বােইরে গেছে খাবারের খোঁজে। তখনই বাচ্চা শেয়ালের কাছাকাছি যান কালমার লেহেপু। অবশ্য শিয়াল ছানারাও লক্ষ্মী বাচ্চার মতো ক্যামেরায় পোজ দেয়। ইস্টোনিয়ায় তোলা ছবিটি।
১৬. বরফের মধ্যে দিয়ে ঠিকরে বের হওয়া আলোর রশ্মি। ফটোগ্রাফার এরনি ভেটার এই ছবিটি তোলেন উইনকিনসনের ন্যাশনাল লেকশোরে। আলোর এই রশ্নি আর বরফ ভাঙার শব্দ ছাড়া আর কোনোই শব্দ নেই সেখানে।
১৭. সোনালী রঙের এই জেলিফিশগুলো মানুষের জন্য মোটেও ক্ষতিকর নয়। পালাউয়ের রক আইল্যান্ডজুড়ে তারা ঘুরে বেড়ায় অবিরত। সূর্যের আলো তাদের জন্য অনেক জরুরী। ছবিটি তোলেন সিয়েমন ফ্র্যাঙ্ক ক্যাবালিস।
১৮. মেক্সিকোর কাবো পালমো সবসময় এমন থাকে না। কিন্তু সমুদ্রের তো এমনই হওয়া উচিত, সামুদ্রিক মাছে ভরপুর। ছবিটি তোলেন জেফ হেস্টার।
১৯. জাপানের ইমপেরিয়াল প্যালেস অব কোয়েটোতে সদ্য প্রস্ফুটিত হতে যাওয়া চেরি গাছের এই ছবিটি তোলেন য়ুকিও মিকি।
২০. এই ছবিটি তোলা মার্ক হানেয়ারের। ক্যারাবিয়ান আইল্যান্ডে একটি ডুবে যাওয়া জাহাজের সামনে। যেটা স্কুবা ড্রাইভারদের খুবই প্রিয় গন্তব্য।






