মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৌবাহিনীর নবীন অফিসাররা আত্মনিয়োগ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় নেভাল একাডেমিতে নৌবাহিনীর শীতকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজে দেয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
নবীন অফিসারদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশকে স্বাধীন করেছি। দেশকে ভালোবাসতে হবে, গড়ে তুলতে হবে। দেশের মানুষকে ভালোবাসতে হবে। বিশ্বসভায় বাঙালি জাতি যেন সর্বদা বিজয়ী জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেভাবেই সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য হিসেবে নবীনদের সবসময় ঊর্ধ্বতনদের প্রতি আনুগত্য এবং অধস্তনদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর পরামর্শও দেন তিনি।
চেইন অব কমান্ড মেনে চলার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে বিশ্ব দরবারে আরও গৌরবোজ্জ্বল আসনে অধিষ্ঠিত করতে তারা সক্ষম হবে বলেও আশা করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, একাত্তরেই ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নৌবাহিনীর গুরুত্ব বিবেচনা করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। এজন্যই ছয় দফা দাবিতে তিনি লিখেছিলেন, নৌবাহিনীর সদর দপ্তর বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) হতে হবে। কিন্তু পাকিস্তানি সরকার তা মানেনি।
‘যাক, আজকে আমরা স্বাধীন দেশ। আমাদের এখন নিজস্ব নৌবাহিনী আছে,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।
নারীর ক্ষমতায়নের দৃষ্টান্ত
ভাষণে প্রধানমন্ত্রী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে নৌবাহিনীর সব শহীদ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে কমিশন পাওয়া সব অফিসারের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আরও খুশি হয়েছি, এবারে আরও ২১ জন নারী কর্মকর্তা কমিশন পেয়েছেন। যেটা আমাদের দেশে নারীর ক্ষমতায়নের একটা বিরাট দৃষ্টান্ত।’
‘৭ মার্চের ভাষণ কোনো লিখিত ভাষণ নয়’
৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা এই বাঙালি জাতিকে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ যে ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের জন্য উজ্জীবিত করেছিলেন, সেই ৭ মার্চের ভাষণ আজ ইউনেস্কোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। বাঙালি জাতি বিশ্ব দরবারে মর্যাদা অর্জন করেছে।
এই ভাষণ যখন তিনি দিতে যান, আমার মা, যিনি সবসময় আমার বাবার পাশে ছিলেন, তিনি বললেন, ‘‘কারও কথা শোনার প্রয়োজন নেই। সারাজীবন তুমি সংগ্রাম করেছ। তোমার মনে যে কথা আছে, তুমি ঠিক সেই কথাই বলবে’’।
স্ত্রীর কথা শুনে ঠিক সেভাবেই ভাষণটি দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। শেখ হাসিনা বলেন, ভাষণটি কোনো লিখিত ভাষণ নয়। উপস্থিতভাবেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ মার্চের ভাষণটি দিয়েছিলেন। ‘যে ভাষণটি পৃথিবীর গত আড়াই হাজার বছরে সামরিক-অসামরিক নেতারা জনগণকে উজ্জীবিত করার জন্য যত ভাষণ দিয়েছেন তার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হিসেবে আজ স্বীকৃতি লাভ করেছে।’








