নৃশংসতার শিকার হলেন আরেক ব্লগার। রাজধানী ঢাকার খিলগাঁওতে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে ব্লগার নিলয় নীলকে। নিলয় ব্লগে লেখার পাশাপাশি আরডিসি নামের এক এনজিওতে কাজ করতেন। পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, জুম্মার নামাজের সুযোগে ঘাতকরা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকা- ঘটিয়েছে।
১৬৭ পূর্ব গোড়ানের ৫ তলার এই বাড়ির ৫ম তলার পূর্ব পাশ্বের্রর একটি ফ্ল্যাটে স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন নিলয় চক্রবর্তী ওরফে নিলয় নীল। দুপুর ১টায় ত্রিশোর্ধ্ব এক যুবক বাসা ভাড়া নেয়ার কথা বলে নিলয়ের ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে। এসময় ফ্ল্যাটে নিলয় ছাড়াও তার স্ত্রী আশামণি এবং শ্যালিকা তন্বি ছিলেন। ৩ মিনিট পর আরো ৩ যুবক ভেতরে প্রবেশ করে চাপাতি দিয়ে নিলয়কে কোপাতে থাকে। নিলয়ের মৃত্যু নিশ্চিত করার পর ঘাতকরা সিঁড়ি দিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, ৪০ মিনিট আগেও ফেসবুকে ওর পোস্ট ছিলো। ও সেসময় নিজের ল্যাপটপেই কাজ করছিলো। এই সময়েই দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করে তাকে।
ইমরান এইচ সরকার আরো বলেন, ৪-৫জন ছেলে বাসা দেখার নাম করে তার বাসায় আসে। তারপর কুপিয়ে মেরে রেখে চলে যায়।
নিলয়ের স্ত্রী আশামণি বলেন, বাড়িভাড়ার কথা বলে ২০-২১ বছরের একটি ছেলে প্রথমে বাসার ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আরো তিন চার জন ঘরে ঢুকে রাম দা দিয়ে কোপাতে থাকে।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ঘাতকদের অস্ত্রের মুখে তারা ঘর থেকে বের হতে পারে নি। তাদের একজন বলেন, প্রতিবেশী শব্দ শুনে আমরা বাইরে এসে দেখি বাইরের দিক থেকে গেট আটকে দিয়েছে। ফোন করে অন্যদের ডেকে আনতে আনতে হত্যাকারীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ, র্যাব এবং সিআইডি’র ক্রাইম সিনের সদস্যরা। তারা নিলয়ের কক্ষ থেকে ঘাতকদের ফেলে যাওয়া আলামত সংগ্রহ করেন।
সহকারী পুলিশ কমিশনার মুন্তাসিরুল ইসলাম জানান, এ হত্যাকাণ্ডে ৫-৬ ছয়জন লোক অংশ নেয়। এদের দুজন মিলে নিলয়কে অন্য রুমে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে। তিনি আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের সময় নিয়লের স্ত্রী বাসায় ছিলেন। তাকে অন্যরুমে আটকে রাখা হয়।
যুগ্ম কমিশনার ডিএমপি কৃষ্ণপদ রায় বলেন, নিলয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তার গলার দিকে খুব ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন আছে। আর এটা অবশ্যই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। খুনিরা নিরাপদ সময় হিসাবে জুমা’র নামাজ ও দুপুর নীরব সময়কে কাজে লাগিয়েছে।
নিলয়ের বন্ধু ও স্বজনরা জানিয়েছেন, নিলয় এবং তার স্ত্রী দুজনেই গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী। নিলয় নীল নামে ফেসবুকের পাতায় তিনি লেখালেখি করতেন। এর আগেও মৌলবাদী গোষ্ঠী তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলো। গত রমজানে পরীবাগ থেকে বাসায় ফেরার সময় এক যুবক তাকে অনুসরণ করে বাসা পর্যন্ত এসেছিলো।
নিলয়ের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেয়া হয়। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের টোনা ইউনিয়নে। তাঁর বাবা মৃত তারাপদ চক্রবর্তী।







