কিশোর পেটানোর দায়ে পাওয়া ছয় মাসের নিষেধাজ্ঞার সময়টুকু ফিটনেস বাড়ানোর পাশাপাশি মায়ের সেবা করা থেকে শুরু করে নানা কাজে ব্যস্ত ছিলেন সাব্বির রহমান। শনিবার মিরপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ‘অবসর’ কাটানোর বর্ণনা দিয়েছেন ২০ লাখ টাকা জরিমানা দেয়া এই ক্রিকেটার।
সাব্বির জানান, এই সময়ে তিনি ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন। পরিবারকে সময় দিয়েছেন। অসুস্থ মায়ের সেবা করেছেন। টেকনিকে কিছু ত্রুটি ছিল সেটিও নাকি শুধরে নিয়েছেন।
ভারতের দেরাদুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ জুনের প্রথম সপ্তাহে। পরে রয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। দুটি সিরিজ সামনে রেখে মিরপুরে চলছে জাতীয় দলের ফিটনেস ক্যাম্প। সামনের দুটি সিরিজ খেলতে খেলতেই উঠে যাবে সাব্বিরের ঘরোয়া নিষেধাজ্ঞা।
এদিন সাংবাদিক দেখেই কথা শুরুর আগে সাব্বির শর্ত জুড়ে দেন, ‘পজেটিভ প্রশ্ন করবেন প্লিজ, নেতিবাচক প্রশ্ন হলে উত্তর দেব না।’ সাব্বির মূলত চাননি শাস্তি বিষয়ক প্রশ্ন তাকে করা হোক।
তবু ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ব্যাপারটি ঠিকই উঠল। খেলার মধ্যে না থাকলে শরীরে ‘মরিচা’ পড়তে পারে। তাই টেকনিক্যাল কারণেই সাংবাদিকরা জানতে চান, সময়টা কেমন কেটেছে?
সাব্বিরের উত্তর, ‘দুই মাস বাইরে ছিলাম। বিসিএল মিস করেছি, প্রিমিয়ার লিগ মিস করেছি। ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছি। নিজের ব্যাটিংয়ে টেকনিক্যাল কিছু ভুল ছিল সেগুলো নিয়ে কাজ করেছি আমি।’
সাব্বির বলেন, কিছু সময় বাইরে থাকাও ইতিবাচক। কেন ইতিবাচক তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের এই হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান।
‘কিছু সময় বাইরে থাকাও ইতিবাচক বলে আমার মনে হয়। নিজের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি। আম্মু অসুস্থ ছিল তাকে সময় দিয়েছি। প্র্যাকটিস করে টেকনিক ঠিক করেছি। সময় খুব ভাল গেছে। আশা করছি পরবর্তী কয়েকটি দিন বা বছর আমার জন্য ভাল যাবে।’
মাঠে কিশোর এক দর্শককে পেটানো। সেই ঘটনা নিয়ে আম্পায়ার, ম্যাচ রেফারিকে হুমকি দেয়ার মতো কাজ করলেও তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করার ‘সাহস’ দেখায়নি বিসিবি। কেননা বর্তমান দলের টপ পারফর্মদের একজন তিনি। মার্চে শ্রীলঙ্কায় নিধাস ট্রফির ফাইনালে খেলেছিলেন ৭৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। তাতেই লড়াকু পুঁজি পেয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করে ট্রফি হাতছাড়া হলেও সাব্বিরের ইনিংসটি হয়েছিল বেশ প্রশংসিত।
টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে সাব্বিরের ক্যারিয়ারসেরা ইনিংস সবশেষ ম্যাচে খেলা ইনিংসটাই। সেই স্মৃতি আত্মবিশ্বাস জমা করছে সাব্বিরের হৃদয়ে। যেটি আফগানিস্তানের বিপক্ষে বেশ কাজে দেবে বলেই বিশ্বাস এ তরুণের, ‘অবশ্যই এটা আমার জন্য একটা আত্মবিশ্বাসের ব্যাপার ছিল। নিধাস ট্রফির ফাইনাল ম্যাচটা যেভাবে খেলেছি, আগের ম্যাচগুলোতে নিজেকে ওইভাবে প্রয়োগ করতে পারিনি। ফাইনালে যেভাবে চেয়েছি, সেভাবে মেলে ধরতে পেরেছি নিজেকে। পরে নিজের জন্য এটা আত্মবিশ্বাস যোগাবে।’








