নিরাপত্তাজনিত কারণে কাশ্মীর ছাড়তে বলা হয়েছে ইরফান পাঠান সহ আরও একশো ক্রিকেটারকে। ভারতীয় সাবেক ক্রিকেটার পাঠান কাশ্মীরের মেন্টর ও কোচ। রঞ্জি ট্রফির দিকে তাকিয়ে দল গোছাচ্ছিলেন তিনি। এরইমধ্যে এমন নির্দেশ দেয়া হল তাদের। ভারতীয় মিডিয়ার শেষ খবর, পাঠানরা কাশ্মীর ছেড়ে চলেও গেছেন।
কাশ্মীরের পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। নিরাপত্তার কারণে টুরিস্ট থেকে শুরু করে বহিরাগতদের কাশ্মীর ছাড়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে আগেই। জম্মু-কাশ্মীর ক্রিকেট সংস্থার সিইও সৈয়দ আশিক হুসেইন বুখারি বলেছেন, ‘হ্যাঁ, সংস্থার পক্ষ থেকে পাঠান ও অন্যান্য নির্বাচক, যারা কাশ্মীরের নন, তাদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’
একইসঙ্গে সিইও যোগ করেছেন, ‘পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াচ্ছে, তা আমরা বুঝতে পারছি না। যেকোনো সময় যা কিছু ঘটতে পারে। সেই কারণে সবধরনের ক্রিকেটীয় কাজকর্ম বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্রিকেট ক্যাম্প থেকে ম্যাচ সবই আচমকা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’
কাশ্মীরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার পারভেজ রসুল বলেছেন, ‘মঙ্গলবার আমরা একটা দল সিলেকশন ম্যাচ খেলছিলাম। অনূর্ধ্ব-১৬ ও ১৯ দলের ম্যাচও ছিল। সবই হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়া হয়।’
সব মিলিয়ে আর সমস্ত কিছুর সঙ্গে কাশ্মীরের ক্রিকেটেও এখন ‘হরতাল’ চলছে।
গত সপ্তাহে অতিরিক্ত ১০ হাজার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাশ্মীরে নিয়েছে ভারত সরকার। ওই ১০ হাজারের পর আরও ২৫ হাজার বাড়তি আধাসামরিক বাহিনীকেও সেখানে নেয়া হয়েছে। স্বাধীনতা দিবসের আগে রাজ্যের নিরাপত্তা আটোসাঁটো করতেই এই ব্যবস্থা বলে দাবি দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের।
তবে এরমধ্যেই নিরাপত্তার কারণে অমরনাথ যাত্রীদের উপত্যকা ছাড়তে নির্দেশ দেয় সরকার। সব মিলিয়ে আতঙ্কের পরিবেশ জম্মু ও কাশ্মীরে। কাশ্মীরের উন্নয়নের কথা বলে সেখানে নতুন সংরক্ষণ বিল এনেছে ভারত সরকার।
ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ, যেটা কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা দেয়, তা বিলোপ করার ঘোষণাও দিয়েছে দেশটির সরকার। সোমবার সংসদে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিরোধীদের তুমুল বাধা ও বাগ-বিতণ্ডার মধ্যে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
ওই অনুচ্ছেদের কারণে জম্মু ও কাশ্মীর অন্য যেকোনো ভারতীয় রাজ্যের চেয়ে বেশি স্বায়ত্বশাসন ভোগ করত। এই ধারাটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর ভিত্তিতেই কাশ্মীর রাজ্য ভারতের অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।
অনুচ্ছেদ ৩৭০ ভারতীয় রাজ্য জম্মু ও কাশ্মীরকে নিজেদের সংবিধান ও একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা দেয়। এছাড়া পররাষ্ট্র সম্পর্কিত বিষয়াদি, প্রতিরক্ষা এবং যোগাযোগ বাদে অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও দেয়।
এই মর্মে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে, যাতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোভিন্দ স্বাক্ষরও করেছেন।
বিশেষ অনুচ্ছেদ বিলোপ ঘোষণার আগেরদিন রোববার কাশ্মীরের শীর্ষ নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখার ঘোষণা আসে। শ্রীনগরের বিভিন্ন এলাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। এই ঘটনায় রাজ্যসভায় সরব হয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস। কাশ্মীর নিয়ে বৈঠকে বসেছে বিরোধী দল। সবমিলিয়ে অগ্নিগর্ভ কাশ্মীর।








