একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর আমীর মতিউর রহমান নিজামীর আপিলের শুনানি ৩ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। সকালে তার আপিলের শুনানি শুরু হয়।
বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এসকে) সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বেঞ্চ এ শুনানি শুরু করেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হচ্ছেন, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ও বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
আপিল শুনানির সময়ে আসামীপক্ষ অনুপস্থিত থাকলে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে মামলার পেপার বুক পড়া শুরু করেন এটর্নি জেনারেল। এর আগে অবকাশকালীন ছুটি পর্যন্ত শুনানি মুলতবি চেয়ে নিজামীর পক্ষে করা আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ৫ নাম্বারে থাকা মতিউর রহমান নিজামীর পক্ষে করা আপিলের শুনানি শুরু থেকে ২০ মিনিট অনুপস্থিত থাকার পর আদালতে আসেন আসামীপক্ষের আইনজীবী।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, সকালে এটা মেনশন করা হয়েছিলো প্রধান বিচারপতি তা নাকোজ করে দিয়েছেন। এটি হলো আমার জন্য শান্তির যে মামলা পেন্ডিং ছিল।যুদ্ধাপরাধী যে কয়জন আছে তার মধ্যে পালের গোদা গোলাম আজম মারা গেছেন, দ্বিতীয় ব্যাক্তি ছিলেন মতিউর রহমান নিজমী আজকে তার বিচার শুরু হলো আপিল বিভাগে । অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আরো বলেন, নাকচ করে যখন আইটেমটা কল হয়েছে তখন তারা ছিলেননা। তখন প্রধান বিচারপতি মহোদয় আমাকে প্লেস করতে বলেছে আমি প্লেস করেছি কিন্ত কিছুক্ষন পরেই তারা এসেছেন।
আসামী পক্ষের আইনজীবী শিশির মনির বলেন, সকালে আমরা এ্যাডভোকেট রেকর্ডের মাধ্যমে সময় চেয়েছিলাম আদালত বলেছিলেন: অপেক্ষা করতে নিদিষ্ট সময় শুরু হতে পারে। সকালে আমরা মেনশন করেছিলাম মহামান্য আপিল বিভাগ আমাদের বলেছিলেন কার্য তালিকার সিরিয়াল অনুপাতে চলবে সেজন্যই আমাদের যেতে সামান্য দেরি হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৯ অক্টোবর চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।
বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের নীলনকশা বাস্তবায়নকারী আলবদর বাহিনীর প্রধানের বিরুদ্ধে আনা ১৬ অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণ করতে পারে রাষ্ট্রপক্ষ। বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ ৪ অভিযোগে আসামীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রুমি হত্যাসহ ৪ অভিযোগে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ।
রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে ২৩ নভেম্বর আপিল করেন নিজামী। ৬ হাজার ২৫২ পৃষ্ঠার আপিলে ১৬৮টি কারণ দেখিয়ে ফাঁসির আদেশ বাতিল করে খালাস চান তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আপিলের রায় ঘোষণা হলেও এখন অপেক্ষা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের।







