বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে হত্যা, গণহত্যা সংঘটিত করার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীকে পাকিস্তানি সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’-এ ভূষিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের পার্লামেন্ট মঙ্গলবার নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিন্দা জানিয়ে ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’ সম্মাননা দেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমগুলোর অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সূত্রে জানা যায়, পাঞ্জাবের পার্লামেন্ট দুটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এর একটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, অন্যটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রস্তাবে বলা হয়, পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকা আফগানিস্তানের তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ মনসুরকে যুক্তরাষ্ট্র এ সপ্তাহে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করায় দেশটি ক্ষুব্ধ। জঙ্গি নেতাকে আশ্রয় দেয়া নিয়ে কোন কথা না বললেও পার্লামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলার নিন্দা জানানো হয়।
ওই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সদস্য ও পাঞ্জাব পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় নেতা মিয়া মেহমুদ-উর-রশিদ।
অন্যদিকে বাংলাদেশ নিয়ে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সদস্য আলাউদ্দিন শেখ। একাত্তরে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধে বাংলাদেশে মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করায় ক্ষুব্ধ ওই নেতা দাবি করেন, পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের এমন পরিণতি হচ্ছে। তাই ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’ সম্মাননায় ভূষিত করে তাদের প্রতি পাকিস্তানিদের শ্রদ্ধা জানাতে হবে।
ওদিকে, লাহোর হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনে গত সোমবার ‘ইসলামিক আইনজীবী ফোরাম’-এর এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের রেলমন্ত্রী খাজা সাদ রফিক বলেন, বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী নেতা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কেবল দলীয় বিষয়ই নয়, জাতীয় মর্যাদা ও সম্মানেরও বিষয়। এ ইস্যুকে সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
সব যুদ্ধাপরাধীর শাস্তির বেলাতেই পাকিস্তান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে। গত ৫ মে যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মানবতা বিরোধী অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।







