নিখোঁজ অভিবাসীদের খোঁজে তাদের পরিবারের সদস্যরা ভিড় করছেন কক্সবাজারে। হয়ত এখানেই আছে তাদের আপনজন। মিয়ানমার থেকে ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশী সংখ্যা ১৫০ হলেও হারানো স্বজন ফিরে পাওয়ার আশায় কক্সবাজার সংস্কৃতি কেন্দ্রে ভিড় করছেন বহু মানুষ।
ফিরে আসাদের তথ্য সংগ্রহ এবং সর্তকতার সাথে তথ্য যাচাই করে হচ্ছে জানিয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আলী হোসেন জানান, ফিরে আসা অভিবাসী ঠিকানা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যথাযথ প্রক্রিয়া শেষে তাদের হস্তান্তর করা হবে।
পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে কক্সবাজার ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফিরিয়ে আনা বাংলাদেশীদের আদালতে নেওয়া হবে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তীতে তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিয়ানমার থেকে ফিরিয়ে আনাদের মধ্যে রোহিঙ্গা ও চিহ্নিত অপরাধী রয়েছে উল্লেখ করে কক্সবাজার ডিবি ওসি সৈয়দ আবুল হোসেন বলেন, মিয়ানমার থেকে ফিরিয়ে আনা ১৫০ জনের মধ্যে ১ জন শরনার্থী ক্যাম্পে বসবাসরত রোহিঙ্গা দালাল। হামিদ নামের ঐ রোহিঙ্গা মানবপাচারের সাথে জড়িত। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়াও দু’জন চিহ্নিত অপরাধী রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে কক্সবাজার পুলিশ।
২১ মে সাগরে ভাসমান থাকা ২০৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছিলো মিয়ানমারের নৌ-বাহিনী। উদ্ধার হওয়ার পর মিয়ানমারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিলো উদ্ধারকুতদের মধ্যে ২০০ জন বাংলাদেশী।
এর প্রেক্ষিতে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত ২৪ মে মিয়ানমার যাওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশী এবং এদের বাংলাদেশে ফেরত নিতে হবে দাবি করে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের তালিকা ছিল বিভ্রান্তিকর ও অপূর্ণাঙ্গ। পূর্ণাঙ্গ তালিকা চেয়ে মিয়ানমারের কাছে আরেকটি চিঠি পাঠায় বিজিবি।
পরবর্তীতে, মিয়ানমারের পাঠানো ২০০ জনের তালিকা থেকে যাচাই বাছাই করে গতকাল পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বাংলাদেশের ১৫০ জনকে ফেরত আনা হয়। ফিরে আসাদের মধ্যে কক্সবাজারসহ দেশের ১৭ টি জেলার নাগরিক রয়েছে।
উদ্ধার হওয়াদের কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে রেখে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ। ফিরে আসাদের সব সেবা দিচ্ছে আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইএমও)।







