রাজীব, নাসির খান, হুমায়ূন ফরিদী, আহমেদ শরীফ পরবর্তী ঢাকাই চলচ্চিত্রের সফল খল অভিনেতা মিশা সওদাগর। তিন দশকের বেশি সময় ধরে রুপালী পর্দার ‘মন্দ মানুষ’ হিসেবে খ্যাতি অক্ষুণ্ণ রেখে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্দায় নায়ক হিসেবে শাকিব খানের যেমন প্রতিদ্বন্দ্বী তৈরি হয়নি, তেমনি ভিলেন হিসেবে মিশারও জুড়ি নেই।জনপ্রিয় এ খল চলচ্চিত্র অভিনেতা নিজেও অপ্রতিদ্বন্দ্বী থাকার বিষয়টি অনুভব করেন। তবে তিনি চান প্রতিযোগী তৈরি হোক।
মিশা সওদাগর মনে করেন, হিট নায়ক হওয়ার চেয়ে ভিলেন হিসেবে হিট হওয়া আরও বেশি কঠিন।
প্রায় ছয়মাস পর আমেরিকা থেকে দেশে ফিরেছেন মিশা সওদাগর। বুধবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় নগরীর মগবাজারে একটি রেস্টুরেন্টে এমডি ইকবালের ‘রিভেঞ্জ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। চুক্তি শেষে চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে আলাপে মিশা সওদাগর বলেন, নায়ক হিট হতে এক ছবি লাগে। কিন্তু ভিলেন হিট হতে কমপক্ষে ২০টি সিনেমা হিট হওয়া লাগে।
তিনি বলেন, ফোকাসে আসার মতো ছেলে এখনও আসেনি। আরেকজন মিশা তৈরি হতে আরও সময় লাগবে। ভিলেন হওয়া এত সহজ কাজ নয়।
আট শতাধিক সিনেমা অভিনয় করা এই খল অভিনেতা বলেন, নায়ককে বা নায়িকার বাবা-মাকে পর্দায় ভিলেনকে চারভাবে ধরা জানতে হবে। একইভাবে প্রত্যেককে ধরলে হবে না। কাজেই ভিলেনের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করতে অনেক সময় লাগে। ভিলেনই সবসময় গল্পের ইউ টার্ন হিসেবে ভূমিকা রাখেন।
তিনি বলেন, এখন অনেকেই কাজ করছে। সবার নাম মনে না থাকলেও তাসকিন ও সীমান্তের নাম মনে পড়ছে। তাদের দেখে ভালো লেগেছে। তাদের বলতে চাই, ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রামের ভিলেন হওয়ার দরকার নেই, পরিচালক প্রযোজকদের শিল্পী হও। কাজ করে দর্শকদের কাছে ভিলেন/অভিনেতা হও। তখনই ফেসবুক, গুগল থেকে সব মাধ্যম তোমার পিছনে দৌড়াবে।
নতুনদের উদ্দেশে মিশা আরও বলেন, কাজ ও কোয়ালিটির পিছনে দৌড়াতে হবে। আমি সবসময় নতুনদের ওয়েলকাম জানাই। নতুনরা এলে তাদের শিখিয়ে দিতে আনন্দ পাই। আমি বা আমার মতো হাতে গোনা দুএকজন যারা আছে তারা আর কতো! সব সিনেমায় মিশা থাকতে হবে এমনটা মনে করার অবকাশ নেই। নতুনদের সুযোগ নিতে হবে। তারা এলে কোয়ালিটি ও প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে।
একই প্রসঙ্গে নাটকের পরিচালকদের কাজের সুনাম করে শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা বলেন, ফারুকী ভাই, তৌকীর ভাই, চয়নিকা আপু সিনেমা করছেন। নাট্যনির্মাতা তপু খান আমাদের শাকিবকে নিয়ে সিনেমা বানাচ্ছেন। এটা ভেরি ওয়েলকামিং। এছাড়া মোস্তফা কামাল রাজ কাজ করছে। সঞ্জয় সমদ্দার, আশফাক নিপুণ, মিজানুর রহমান আরিয়ানের কাজও খুব ভালো লাগে। তারা সিনেমায় এলে মার্কেট বাড়বে। দর্শক বলবে কাদের সিনেমা ভালো হবে। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই সিনেমা বাড়ুক।
মিশা সওদাগরের সঙ্গে কথা হয় দেশের সিনেমা হল সংকট নিয়ে। তিনি মনে করেন, সিনেমা হল কখনও পুরোপুরি বন্ধ হবে না। যুগের চাহিদায় ওটিটি হাতে হাতে এসেছে। তবে সিনেমা হল থাকবেই। মিশা বলেন, শাহরুখ খান ‘পাঠান’ সিনেমা করছেন আড়াই-তিনশো কোটির বাজেটে। সিনেমা হলে মুক্তির জন্যই লগ্নী করছে যশ রাজ ফিল্মস। আবার শাহরুখই তার প্রডাকশন রেড চিলিজ থেকে ওটিটির জন্য সিনেমা বানাচ্ছেন। কাজেই দুই মাধ্যমেই কাজ হবে। তবে মাধ্যম পরিবর্তন হবে। সেজন্য কয়েকটি ওয়েব সিরিজের কাজ করবো। কথাবার্তা হয়ে আছে। আমি ফুটপাতে বসেও অভিনয় করতে রাজি যদি আমার গল্প চিত্রনাট্য ভালো লাগে।
মিশা সওদাগর অভিনীত বিদ্রোহী, শান, মিশন এক্সট্রিম, দিন দ্য ডে সিনেমাগুলো মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমানের জীবনী নিয়ে নির্মিতব্য বায়োপিকে অভিনয় করছেন তিনি।
এ বিষয়ে মিশা সওদাগর জানান, পাকিস্তানী আইয়ুব খানের চরিত্রে অভিনয় করবেন। সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ অংশের শুটিংয়ে তিনি শুটিং শুরু করবেন। আমেরিকায় থাকাকালীন সিনেমাটিতে আইয়ুব খানের চরিত্র নিয়ে বিস্তর লেখাপড়া করে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন মিশা।








