টানা তিন জয়ে টুর্নামেন্ট শুরু, অর্জন ৬ পয়েন্ট। পরের ৭ ম্যাচে অর্জন কেবল এক পয়েন্ট, সেটিও বৃষ্টিতে ম্যাচ ভেসে যাওয়ার কল্যাণে। তাতে শেষ চারের হিসাব অনেকটা জটিল হয়ে উঠেছিল নাসিরদের। টুর্নামেন্টের শেষলগ্নে এসে দারুণ এক জয়ে শেষ চারের সেই আশাই আবার জাগিয়ে তুলল সুরমাপাড়ের দলটি। রোববার চিটাগং ভাইকিংসকে ১০ উইকেটে উড়িয়ে দিয়েছে সিলেট সিক্সার্স।
রংপুর রাইডার্স যদি নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে হারে, আর সিলেট শেষ ম্যাচে জেতে, তাতে সেরা চারের দরজা খুলে যাবে সিলেটের। আপাতত ১১ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্টে টেবিলের পাঁচে আছে নাসিররা। রংপুর ১০ ম্যাচে ১০ পয়েন্টে টেবিলের চারে।
মিরপুরে শুরুতে ব্যাট করে নাসিরের ঘূর্ণিতে ১২ ওভারে ৬৭ রানেই গুটিয়ে যায় চিটাগং। সিলেট সেটি টপকায় ১১.১ ওভারেই, কোন উইকেট না হারিয়ে। মোহাম্মদ রিজওয়ান ৩৬ ও আন্দ্রে ফ্লেচার ৩২ রানে অপরাজিত থেকে ম্যাচ শেষ করে ফেরেন।
এর আগে ইনিংসের প্রথম বলে ছক্কা হজমের অভিজ্ঞতায় শুরু হয়েছিল নাসিরের। সিক্সার্স অফস্পিনারকে প্রথম বলেই সোজা ব্যাটে খেলে ছক্কা হাঁকান চিটাগং ভাইকিংসের ওপেনার লুক রঞ্চি। সেটিই যেন তাতিয়ে দেয় অধিনায়ককে। পরের বলেই বোল্ড করে দেন অজি ব্যাটসম্যানকে। ওভারের শেষ বলে আউট সৌম্য সরকার।
নিজের দ্বিতীয় ওভারের পঞ্চম বলে লুইস রিস। পরের ওভারে নাসিরের শিকার তানবীর হায়দার। আর শেষ ওভারে স্টিয়ান ভ্যান জিল। রোববার ৪ ওভারে ৩১ রান দিয়ে নাসির তুলছেন ৫ উইকেট। প্রথম বলে ছক্কা হজমের ম্যাচেই ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংটা করলেন নাসির!
যেকোনো ধরনের ক্রিকেটেই এটি নাসিরের সেরা বোলিং। টি-টুয়েন্টিতে আগের সেরা বোলিং ছিল ১২ রানে ৩ উইকেট। ওয়ানডে ও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে একবার করে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন নাসির। তবে রান খরচায় এটিই কম।
টানা বোলিং করে যাওয়া নাসিরের ঘূর্ণি জাদুর স্পেল শেষ হওয়ার পর শরিফউল্লাহ ও নাবিল সামাদ দ্রুত উইকেট তুললে মাত্র ৬৭ রানে গুটিয়ে যায় পয়েন্ট টেবিলের তলানির দল চিটাগং। তাদের ইনিংস স্থায়ী হয় ১২ ওভার। বিপিএলে সর্বনিম্ন রানের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে থাকল চিটাগংয়ের ইনিংসটি।
নাবিল সামাদ তিনটি ও শরিফউল্লাহ নেন দুটি করে উইকেট। সিলেটের তিন স্পিনার মিলেই তুলেছেন চিটাগংয়ের সবকটি উইকেট।
ইরফান শুক্কুরের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ১৫ রান। এছাড়া রিস ১২ ও ভ্যান জিল করেন ১১ রান। দলের আর কেউ দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি।





