নাইজেরিয়ার চিবক শহরের নিখোঁজ ১১২ অপহৃত স্কুলছাত্রীর মধ্যে মাত্র ১৫ জন বেঁচে আছে বলে দাবি করেছেন দেশটির এক সাংবাদিক।
অপহরণকারী জঙ্গি গোষ্ঠী বোকো হারামের সঙ্গে বিশ্বস্ত যোগাযোগ থাকার সূত্রে এ কথা জানতে পেরেছেন বলে জানান আহমাদ সালকিদা নামের ওই সাংবাদিক।
সালকিদা জানান, সরকারের পক্ষ থেকে ওই মেয়েদের মুক্তির জন্য তিনি দফায় দফায় বোকো হারামের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন। তবে তাদের মুক্ত করার বেশ কিছু সুযোগ সরকার হারিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সালকিদা বলেন, চিবক থেকে স্কুলছাত্রীরা অপহৃত হওয়ার সপ্তাহ দুই পর সাবেক প্রেসিডেন্ট গুডলাক জনাথানের সরকার তাকে তাদের মুক্তির ব্যাপারে অপহরণকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে বলেছিল।
সরকারের সঙ্গে বন্দী বিনিময়ের পাঁচ দফা আয়োজনও করা হয় বলে জানান এই সাংবাদিক। কিন্তু তৎকালীন প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আলোচনা পরে ভেস্তে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
জীবিত ১৫ ছাত্রীর নাম প্রকাশ না করে সালকিদা বলেন, এটা জানানো সরকারের দায়িত্ব।
সরকার অবশ্য আহমাদ সালকিদার এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে বলেছে, নিখোঁজ মেয়েরা মৃত, এমনটা ভাবার কোনো কারণই নেই। নাইজেরীয় সরকারের এক মুখপাত্র বিবিসি’কে জানান, বাকি ১১২ মেয়ের মুক্তি নিশ্চিত করতে বোকো হারামের সঙ্গে এখনো আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
চিবকের স্কুলছাত্রীদের অপহরণের চার বছর স্মরণে পুরো বোর্নো প্রদেশ জুড়ে বিক্ষোভ মিছিল করছেন বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা। সরকারের কাছে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনার দাবিতেই এই মিছিল।

ঠিক চার বছর আগে, ২০১৪ সালে বোকো হারাম নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বের বোর্নো প্রদেশের চিবক থেকে ২৭৬ জন স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। তাদের মধ্য থেকে বিভিন্ন সময় ছেড়ে দেয়া হয়েছে ১০৩ জনকে। ৫৭ জন মেয়ে বোকো হারামের আস্তানা থেকে নিজেই পালিয়েছে, ৩ জনকে খুঁজে পাওয়া গেছে।
এছাড়াও বিভিন্ন সময় অপহৃত স্কুলছাত্রীদের উদ্ধার চেষ্টায় তাদের সঙ্গে ৫ শিশুকেও উদ্ধার করা হয়। এরপরও নিখোঁজ রয়েছে আরও ১১২ জন মেয়ে।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, বিশেষ করে পাশ্চাত্যের শিক্ষার পুরোপুরি বিরোধী জঙ্গি সংগঠন বোকো হারাম। এছাড়া নারী শিক্ষাও নিষিদ্ধ বলেও দাবি করে তারা। এ কারণেই দলটি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং নারী শিক্ষার্থীদের অপহরণ করে নিয়ে যায়।








