সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আগেই কেরাণীগঞ্জের নতুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী স্থানান্তর করায় চরম দুর্দশায় পড়েছে কারাবন্দী থেকে শুরু করে কারা কর্তৃপক্ষ। বন্দীদেও দেখতে আসা স্বজনরাও প্রতিদিন মুখোমুখি হতে হচ্ছেন অমানবিক দুর্ভোগের।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিন ১০ এপ্রিল উদ্বোধন করার পর ২৯ জুলাই কেরাণীগঞ্জের ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে নতুন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীদের স্থানান্তর করে নিয়ে যায় কারা কর্তৃপক্ষ। পুরান ঢাকার কারাগার থেকে প্রায় ৭ হাজার বন্দী এনে কার্যক্রম শুরু করলেও পুরোপুরি শেষ হয়নি নতুন কারাগারের কাজ। ভবন সংকট, গ্যাস-পানি সংযোগে পরিকল্পনার অভাব আর অব্যবস্থপনায় দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন বন্দীরা। বন্দীদের এমনকি সময়মতো খাবারও দিতে পারছেন না কারা কর্তৃপক্ষ।
আসামিদের দেখতে আসা স্বজনরা বলছে, পাঁচদিন ধরে আসছি খাবার দিতে যাচ্ছি কিন্তু তারা নাকি ভেতর খাবার পাচ্ছে না। এছাড়া পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে দেখতে হচ্ছে আসামি স্বজনদের। পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগার এর চেয়ে অনেক ভালো ছিল বলেও তদের দাবি।
শুধু বন্দীরাই না দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীরাও। নতুন কারাগারের সাক্ষাতভবনেও অদক্ষ ব্যবস্থাপনায় দুর্ভোগে পড়ছেন স্বজনরা। এছাড়াও পুরোনো কারাগারের মতোই নতুন কারাগারেও পুরোপুরি চালু আছে অসাধু কারাসদস্যদের সাক্ষাৎবাণিজ্য সিন্ডিকেটের সক্রিয় কার্যক্রম।
দুর্দশার কথা স্বীকার করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।
তিনি বলেন, সাধারণ বন্দীদের জন্য কারাগারের ভিতরে যে ছ’টি ওয়ার্ড আছে এই ছ’টি ওয়ার্ডের এখনো তিনটি ওয়ার্ডের কাজ সম্পন্ন হয়নি। বাকি চারটির মধ্যে বন্দীদের একসঙ্গে থাকতে হচ্ছে। সে অনুযায়ী বন্দী পাঁচ’শ জন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন যে সমস্ত ভবন রয়েছে সেখানে পনের’শ বন্দীদের রাখতে হচ্ছে। তবে যেটি এ মুহুর্তে নিরসন করা দরকার সেটি প্রয়োজন হল রান্নার ব্যবস্থা ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ করার সু- ব্যবস্থা।
কারা কর্তৃপক্ষের দাবি, নতুন কারাগারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়াদের পরিকল্পনা দ্রুতভাবে বাস্তবায়ন হলেই দূও হবে বন্দী ও দর্শনার্থীদের দুর্দশা।








