সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, গত ১৩ বছর ধরে প্রতি বছর বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে ‘ঈদের পরে আন্দোলন’। দেখতে দেখতে ১৩ বছর, বিএনপির আন্দোলন কোন বছর?
শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) গাবতলী বাস টার্মিনালে ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। এসময় বিএনপির আন্দোলনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি প্রতিদিন একই কথা বলে। পথ হারানো পথিক, দিশেহারা পথিকের যেমন হয়, বিএনপিরও তাই হয়েছে। এরা আসলে কী চায়? যে ঐক্যের লেজে-গোবরে অবস্থা সে ঐক্য জাতীয় ঐক্যের দাবি করে কীভাবে? তাদের নেতা কই? কে তাদের আন্দোলন করে?
ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ঈদযাত্রায় অতীতের যে কোন সময়ের সময়ের চেয়ে আমাদের রাস্তার অবস্থা ভালো আছে। উত্তরবঙ্গগামী বাসগুলোর জন্য গাজীপুরের অংশ থেকে যে ধরনের সমস্যা হতো, এবার আর তা না হওয়ার কথা, কারণ আমরা ৩টি ফ্লাইওভার খুলে দিয়েছি। ফলে এ বছর যাত্রীদের আগের মতো দুর্ভোগ হবে না বলে আশা করা যায়।
বাস মালিকদের উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, সারা বছর আপনারা আয় করেন, ঈদের সময় আমি জানি ফেরার সময় কোন যাত্রী থাকে না। গত দুই বছর মানুষ মহামারীর কারনে বিচ্ছিন্নভাবে ঘরমুখো ছিল। তাই এবার অনেকেই বাড়ি যাচ্ছেন ঈদ পালন করতে। আমি বলবো জাতীয় স্বার্থে আপনারা বিষয়টি দেখবেন, ত্যাগ স্বীকার করবেন।
পথে পথে যাত্রীরা যাতে কোন ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন সেদিকে কঠোরভাবে নজর দিতে বিআরটিএ ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর প্রতি নির্দেশ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিদিন খোঁজ খবর নিচ্ছেন।
তিনি বলেন, বিগত যে কোন সময়ের তুলনায় এবার দেশের সড়ক মহাসড়ক অনেক ভালো। গাজীপুরে সড়কে যে সংকট ছিল, এবার আর সেই সংকট থাকবে না। উত্তরবঙ্গের সড়কে ঈদের সময় যে সমস্যা হয়, সেটাও আমরা উত্তরণ করেছি। কাজেই সেখানেও কোন সংকট হবে বলে মনে হয় না।
সেতুমন্ত্রী বলেন, পরিবহনের সবাই যদি সচেতন হন, রং সাইডে গাড়ি যদি না চালান, একটু ভিড় হলেই দেখা যায়, অনেকেই রং সাইডে চলে যান। রং সাইডে দুই চারটা গাড়ি গেলেই পুরো রাস্তায় যানজট লেগে যায়। যার যে দায়িত্ব সেটা যথাযথ ভাবে পালন করা হলে এবারের ঈদ যাত্রা অনেকটাই ভালো হবে।
গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনকালে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহনের সংশ্লিষ্ট নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।








