নিজের সাবেক দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান সাকিব আল হাসানের। বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন টাইগারদের টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক। কিন্তু ম্যাচ জেতানোর পরও সাকিবকে নিয়ে শুধুই আক্ষেপ সমর্থকদের।
সাকিবকে নিয়ে আক্ষেপটা দুইপক্ষেরই। একপক্ষের আক্ষেপ তিনি ম্যাচসেরার পুরস্কার না পাওয়ায়। আরেকপক্ষের আক্ষেপ এমন সাকিবকে নাইটদের দলে ধরে না রাখায়।
পুরো ম্যাচের কৃতিত্বস্বরূপ ম্যাচসেরার পুরস্কারটা ওঠার কথা ছিল সাকিবের হাতেই। কিন্তু সেই জায়গায় অস্ট্রেলিয়ান তারকা বিনি স্ট্যানলেকের নাম ঘোষণা করা হয়, এতে অবাক হয়েছেন অনেকেই।
স্ট্যাটলেককে ম্যাচসেরা ঘোষণার পর শুরু হয় দুজনের পারফরম্যান্সের চুলচেরা বিশ্লেষণ। চার ওভার বল করেছেন সাকিব। ২১ রানে ২ উইকেট, টি-টুয়েন্টিতে নিশ্চয়ই প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার।
সাকিব উইকেটগুলোও নিয়েছেন এমন ব্যাটসম্যানদের, যাদের কেউ একজন ভয়ংকর হয়ে উঠলে ম্যাচ হাতছাড়া হয়ে যেতে পারত সানরাইজার্সের। ৩৪ বলে ৪৯ রানের ইনিংস খেলে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা ওপেনার ক্রিস লিনকে নিজের একার কৃতিত্বে সাজঘরে ফেরান সাকিব। বোলিংয়ের পাশাপাশি লিনের উইকেট নিতে দৃষ্টিনন্দন এক ক্যাচ উপহার দেন। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেখার মতো এক ক্যাচ ধরেন তিনি। ভয়ংকর হয়ে ওঠার আগে সুনীল নারিনকেও মাত্র ৯ রান করার পর সাজঘরের পথ ধরতে বাধ্য করেন বাংলাদেশের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। দারুণ এক ক্যাচের মাধ্যমে সুভমান গিলকেও প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান।
এখানেই শেষ নয়, ৫৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে সানরাইজার্স যখন ধুঁকছে, তখনই কেন উইলিয়ামসকে সঙ্গে নিয়ে ৫৯ রানের জুটি গড়েন সাকিব। ২১ বলে ২৭ রান করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এই অলরাউন্ডার।
অন্যদিকে চার ওভার বল করে অস্ট্রেলিয়ান পেসার বিনি স্ট্যানলেকও ২১ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট। ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। মাঠে নেই অন্য কোনো ফিল্ডিং নৈপুণ্য। তবুও ম্যাচসেরা তিনি। সানরাইজার্সের পক্ষে ৪৪ রানে ৫০ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন কেন উইলিয়ামসন। ম্যাচসেরার পুরস্কারটা তার নামে হলেও মেনে নেয়ার মতো কারণ ছিল। কিন্তু কিসের নিরিখে সাকিবকে বাদ দিয়ে স্ট্যানলেককে নির্বাচিত করা হল, ভেবে অবাক হয়েছেন অনেকেই। সব মিলিয়ে হতাশ সাকিবভক্তরা।
এটা গেল একপক্ষে আক্ষেপ। সাকিবকে নিয়ে হা-হুতাশ করা অন্যপক্ষ অবশ্যই কলকাতা নাইট রাইডার্সের ভক্তরা। এমন একজন অলরাউন্ড পারফর্মারকে দলে ধরে না রাখায় হতাশ তারা। বাংলাদেশ তারকাকে নিয়ে কলকাতার আফসোসটা টের পাওয়া যায় সেখানকার দৈনিক পত্রিকারগুলো শিরোনামের মধ্য দিয়েই।
নাইটদের হারের পর আনন্দবাজার শিরোনাম করেছে- ‘কেকেআরের কাঁটা প্রাক্তন তিন নাইট।’ আর এবেলার শিরোনাম- ‘বৃষ্টিবিঘ্নিত লড়াইয়ে নাইট শিবিরে ধাক্কা দিলেন সেই সাকিবরা।’ ‘এই সময়’ পত্রিকার শিরোনামটাই সবচেয়ে নজরকাড়া- ‘বাতিল বাঙালির নববর্ষের প্রতিশোধ।’
কলকাতার ইংরেজি দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফসহ ভারতের বেশিরভাগ বড় বড় পত্রিকার শিরোনাম ছিল সাকিব আল হাসানকে ফোকাস করেই।








