দুই দফায় গ্যাসের দাম ২২ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিইআরসি। সিএনজিসহ প্রায় সকল গ্রাহকেরই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সৃষ্টি হয়েছে অসন্তোষ। দুই দফায় গ্যাসের এই দাম বাড়ানো কতটা যৌক্তিক? এ নিয়ে ব্যবসায়ী, পোশাক শিল্প মালিক এবং সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া।
গ্যাসের দাম বাড়ানোয় উৎপাদন খরচ বেড়ে রপ্তানি খাত নতুন ভাবে চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ। তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, যখন শুনানি চলছিলো তখনই দাম বাড়িয়ে দিতে চেয়েছিলো, আমাদের চেষ্টায় তা অনেকদিন হয়নি, কিন্তু এখন দাম আবারো বাড়ানো হয়েছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে রপ্তানি খাত নতুন ভাবে চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, দেশে এখনও যে পরিমাণ গ্যাসের মজুদ আছে, যা যত্রতত্র ব্যবহার না করে শুধু উৎপাদনশীল খাতে ব্যয় করা সম্ভব হলে তা দিয়েও দীর্ঘদিন উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হবে। শিল্প, কলকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, সার উৎপাদন, পাটজাত পণ্য উৎপাদনসহ শুধুমাত্র উৎপাদনশীল খাতে গ্যাসের ব্যবহারকে নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে।
গ্যাসের মূল্য বাড়ার কারণে তৈরি পোশাক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে উল্লেখ করে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাসির চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, কাপড়, সুতা, বোতাম থেকে শুরু করে সব ধরনের কাঁচামালের দাম বাড়বে। ফলে যে মূল্যে পোশাক উৎপাদিত হবে তা বিক্রির বাজার খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটি তৈরি পোশাক শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ইন্ডাস্ট্রিগুলোর উৎপাদন পড়বে সব থেকে হুমকির মুখে।
পাক্ষিক এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেন মনে করেন, গ্যাসের মজুদ এবং চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় রেখে চলতে গেলে গ্যাসের দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। ভবিষ্যতে এই দাম পর্যায়ক্রমে বাড়তে থাকবে। বিশেষ করে বাসা বাড়ির কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়বে। কিন্তু কয়েক মাস আগেই এক দফা দাম বৃদ্ধির পর আবারও দুই দফায় দাম বৃদ্ধি না করলেও পারতেন বিইআরসি কর্তৃপক্ষ।যারা বাড়িঘড়ে গ্যাসের সুবিধা পান, সে সংখ্যাটি অল্প। সরকারের বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির টাকা দিয়ে সেই সংখ্যক মানুষকে গ্যাস সুবিধা দেয়া হবে কি না সেটি একটি বড় প্রশ্ন। এসব বিষয় মাথায় রেখেই নতুন করে এই দাম বাড়ানো।

তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে এর উপর নির্ভরশীল কোম্পানীগুলোর মুনাফার সংকুচিত হবে। বাড়তি দামের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে কোম্পানীগুলোকে ব্যবহারের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারের চ্যালেঞ্জ হবে দাম বাড়ানোর ফলে এর সাথে সম্পর্কিত নাগরিক সুবিধাদি যেমন-গাড়ির ভাড়া ইত্যাদি যেন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে। তাহলে এর প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। কিন্তু সরকার এসব ক্ষেত্রে সব সময় সফল হয় না।
২০১৮ সাল নাগাদ দেশে আর গ্যাসের সংকট থাকবে না বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের এমন বক্তব্যের সাথে পুরোপুরি একমত নন তিনি। তিনি বলেন, আমাদের যে চাহিদা আর বর্তমানে যে যোগান তার মধ্যে ব্যবধান অনেক বেশি। ২০১৮ সাল নাগাদ হয়তো আমাদের গ্যাস সংকটের পুরোপুরি সমাধান হবে না, তবে একটি সহনীয় পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে।








