টিকে থাকার সমীকরণের ম্যাচে ভালোভাবেই ঘুরে দাঁড়াল তারকাসমৃদ্ধ মিনিস্টার ঢাকা। খুলনা টাইগার্সের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ৫ উইকেট হাতে রেখে মাহমুদউল্লাহরা নোঙর ফেলে জয়ের বন্দরে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেবিলের তিনে থাকা খুলনার ব্যাটিং অর্ডার ধসিয়ে ১৩০ রানের লক্ষ্যে নামেন তামিমরা। জবাবে শেষ ওভারের উত্তেজনা ছাপিয়ে ৪ বল হাতে রেখেই নিশ্চিত হয় ঢাকার জয়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: খুলনা-১২৮/৭ (২০) ও ঢাকা- ১৩১/৫ (১৯.২)
বুধবার বোলিং-ব্যাটিং উভয় বিভাগেই দুর্দান্ত করেছে ঢাকা। বড় জয়ে ৯ ম্যাচে ৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করে সেরা তিনে উঠল মাহমুদউল্লাহর দল। একধাপ নিচে নেমে চারে এসেছে খুলনা টাইগার্স। মুশফিকদের সমান ৮ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। সবার উপরে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে সাকিবের বরিশাল। দুইয়ে দুইবারের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের পয়েন্ট ৯।
ছোট লক্ষ্য পেয়েও ভালো শুরু করতে পারেননি ঢাকার দুই ওপেনার। গতকাল চট্টগ্রামের বিপক্ষে ফিফটি হাঁকানো তামিম এদিন ফিরে ৬ রান করে। অপর ওপেনার ইমরানুজ্জামানও যোগ করে ৬ রান।
দলীয় ১২ রানে দুই টপ অর্ডারকে হারানো দলকে পথ দেখান তিনে নামা জহুরুল। ৩৫ বলে ধীরগতিতে ৩৪ রানের ইনিংস খেলে শিকার হন রুয়েল মিয়ার। ইনিংসে হাঁকান দুটি করে চার-ছক্কা।
১২.৩ ওভারে ৬৯ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে টানেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। অধিনায়কের ধীরগতির ব্যাটিংয়ে শতরান পার করে ঢাকা। ১০১ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হিসেবে মাহমুদউল্লাহ ফেরেন, ৩৬ বলে ৩৪ রান করে। ফেরান দুটি উইকেট পাওয়া থিসারা পেরেরা।
পরে বেশি সময় থাকতে পারেননি মাহমুদউল্লাহর সঙ্গী শামসুর রহমানও। ফেরার আগে ১৪ বলে এক চার ও দুই ছক্কায় ২৫ রানের ক্যামিও খেলে যান। শেষ ১২ বলে ১৫ রানের পথটা নির্বিঘ্নে পাড়ি দেন শুভাগত ও আজমাতুল্লাহ।
শেষ ওভারে ১১ রানের অঙ্ক থিসারা পেরেরাকে পরপর দু-বলে দুবার উড়িয়ে মেরে সমাধান করেন শুভাগত হোম। ৯ বলে ১৮ রানের ইনিংস খেলার পথে হাঁকান দুটি ছক্কা।
আগে খুলনার ইনিংসে প্রথম ওভারেই ফেরেন সৌম্য সরকার। রুবেল হোসেনকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন শুভাগত হোমের হাতে। ৫ রান করে রান আউট হন জাকের আলী। ৬ রান যোগ করতে পারেন আন্দ্রে ফ্লেচার। পরের বলে ইয়াসির আলী রাব্বিকে বোল্ড করেন সানি। ১২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে খুলনা।
আগের ম্যাচে ৩৮ বলে ৬২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা মুশফিক ফেরেন ১২ রান যোগ করে। মেহেদী হাসান ১৭ রান করে কাইস আহমেদের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে খুলনার স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৫৮ রান।
সপ্তম উইকেটে থিসারা পেরেরাকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই করেন সিকান্দার রাজা। দুই বিদেশি গড়েন ৩৯ রানের জুটি। পেরেরা ১২ রান করে ফিরলেও লড়াই চালিয়ে যান জিম্বাবুইয়ান অলরাউন্ডার।
ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ৫০ বলে আনেন ৬৪ রান। রাজা ইনিংসটি সাজান ৫ চার ও ৪ ছক্কায়। তার ফিফটির সুবাদে খুলনার সংগ্রহ দাড়ায় ১২৯ রান।
ঢাকার হয়ে আরাফাত সানি ১৫ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। ২৫ রান খরচায় ২ উইকেট পান ওমারজাই। একটি করে উইকেট নেন রুবেল, ফারুকি ও কাইস।








