ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় গত দুই দিন লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে ১শ’ টাকা অতিক্রম করেছে পেঁয়াজের দাম। কিন্তু দাম এত বেশি বেড়ে গেছে যে, এতে বিব্রতবোধ করছেন ব্যবসায়ীরাও। তারা বলছেন, দাম এত বেশি বাড়ার কথা নয়। কিন্তু কেন বাড়লো তা সরকারের খতিয়ে দেখা দরকার।
মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল ও মালিবাগ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ ১শ’ থেকে ১১০ টাকা আর আমদানি করা পেঁয়াজ ৯০ থেকে ৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
অথচ ৩ থেকে ৪ দিন আগেও দেশি পেঁয়াজের দাম ছিল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা আর ভারতীয় পেঁয়াজের দাম ছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা।
ভোক্তাদের অভিযোগ, বাজারে দেশি-বিদেশি পেঁয়াজের যে পরিমাণ মজুদ রয়েছে তাতে ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দাম বেড়ে যাওয়ার কথা নয়। মজুদদারদের সিন্ডিকেটই কৃত্রিমভাবে দাম বাড়াচ্ছে।
হাতিরপুল বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা ক্রেতা সোহাগ রহমান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বাড়তে পারে। কিন্তু দেশি পেঁয়াজের দাম বাড়বে কেন? কারণ দেশে তো আগে আনা পেঁয়াজও রয়েছে।
তবে পেঁয়াজ আমদানিকারক ও আড়ৎদাররা ভোক্তাদের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পেঁয়াজের সবচেয়ে বড় বাজার হলো শ্যামবাজার। এই বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির প্রচার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ২৯ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় দাম হুট করে এত বেশি বাড়ার কথা নয়। যেটা বাড়ছে তা অস্বাভাবিক।
তিনি বলেন, হুট করে এত দাম বাড়বে আমরা তা কখনই প্রত্যাশা করিনি। তবে ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর বাড়লেও ১ অক্টোবর থেকে বাড়েনি। বরং কমতে শুরু করেছে।
সরকারেরও কিছু ব্যর্থতা রয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, হঠাৎ করে দাম বেড়ে গেলে সরকার তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এতে সরকারের ব্যর্থতা রয়েছে বলে মনে হয়। এ বিষয়ে সরকারের মনিটরিং বাড়ানো উচিত।
তবে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোনো সিন্ডিকেট নাই বলে তার দাবি। তিনি বলেন, এটা পচনশীল পণ্য। তাই এই ব্যবসায় সিন্ডিকেট নাই।
অবশ্য দাম কয়েকদিনের মধ্যেই কমবে বলে ধারণা শ্যামবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইলিয়াসের। তিনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, তুরস্ক ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আসছে। এসব পেঁয়াজ বাজারে আসলে শিগগিরই দাম কমবে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, দেশের ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজ আমদানির জন্য যেসব এলসি খুলেছে সেসব পেঁয়াজ এখনও বাংলাদেশে আসেনি। আগের আমদানি করা পেঁয়াজও এখনও মজুদ রয়েছে। অথচ রপ্তানি বন্ধ করবে এমন ঘোষণার সাথে সাথেই দেশে দাম বেড়ে যাওয়া সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।
ভারতের রপ্তানি বন্ধের ঘোষণায় ইতোমধ্যে হাজার কোটি লুটে নিয়েছেন পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা এমন অভিযোগ করে অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির ভূঁইয়া বলেন, দেশে সৎ ব্যবসায়ীও রয়েছেন, তবে অধিকাংশ ব্যবসায়ী ভোক্তার পকেট কাটছেন। এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। এমন কি সরকারও এর দায় এড়াতে পারে না।
এক্ষেত্রে সরকারের আরো কঠোর ভূমিকা নেয়া দরকার মন্তব্য করে তিনি বলেন, এলসি খরচ কত টাকা আর পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কত টাকায় এসব বিষয়ে মনিটরিং করতে হবে। কারা দাম বাড়াচ্ছে তা সরকার জানে। যারা কৃত্রিমভাবে দাম বাড়িয়ে বেশি দাম নিচ্ছে তাদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মুখপাত্র হুমায়ুন কবির চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, টিসিবি ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ট্রাকের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে। প্রথমে ৫টি ট্রাকের মাধ্যমে বিক্রি শুরু হলেও এখন ৩৫টি ট্রাকের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে। প্রয়োজনে ট্রাকের সংখ্যা বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মো. জাফর উদ্দিন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, সারাদেশে সন্তোসজনক পেঁয়াজ রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কী পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে সেই তথ্য সংগ্রহেরও কাজ চলছে।
তিনি বলেন, বুধবার বড় আমদানিকারকদের সাথে বৈঠক করা হবে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে তাদের সাথে আলোচনা হবে। তবে শিগগিরই দাম কমবে বলে আশাকরছি।








