আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকেই অংশগ্রহণ করতে হবে। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেওয়া এমন সিদ্ধান্তকে দেশের গণতন্ত্রের জন্য কেউ কেউ ভালো বলে মন্তব্য করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, এই সিদ্ধান্তে দেশের গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্থই হবে।
জানিপপের চেয়ারম্যান ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ বলেন, মন্ত্রীসভার বৈঠকে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা দেশের জন্য সঠিক কাজটিই হয়েছে। উন্নয়ন কখনোই রাজনীতি ব্যতিরেকে হতে পারে না। দেশকে উন্নত করতে হলে রাজনীতিতে মন দিতেই হবে।
স্থানীয় সরকার কখনোই দলের বাইরের কিছু নয়। তাহলে তারা কেনো দলীয় প্রভাবমুক্ত থাকবে। এর আগে দেখা যেতো স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলই কোনো না কোনো প্রার্থীকে সমর্থন দিচ্ছিলো। তাদের হয়ে প্রচার-প্রচারণাতেও অংশ নিচ্ছিলো। কিন্তু পরে সেই প্রার্থী পরাজিত হলে তার দায়ভার আর নিচ্ছিলো না। তাই অনেকেই চাইছিলো এসব বন্ধ হওয়া দরকার।
এখন নিশ্চয়ই সেই সুযোগ থাকবে না। দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিলে কেউ নিশ্চয়ই দায় এড়াতে পারবে না। আবার অনেকের শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টাটাও সফল হবে না।
এর ফলে দেশে গণতন্ত্রের চর্চাটা আরো বাড়বে বলেই মনে করেন এই বিশেষজ্ঞ।
তিনি বলেন, এটি মৌলিক গণতন্ত্র প্রবর্তনের একটি চেষ্টা। এখন রাজনীতি এককেন্দ্রিক হয়ে আছে। তখন স্থানীয় পর্যায়েও ছড়িয়ে যাবে। এতে গণতন্ত্র চর্চা আরো তীব্রতর হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় সরকার দলীয় ভাবেই পরিচালিত হয় সেটা আমরা আগে থেকেই জানি। কিন্তু ইউনিয়ন পরিষদে সেই প্রভাবটা এখনো পড়তে দেখিনি। এবার সবখানেই দলীয় রাজনীতির প্রভাব তীব্রতর হবে।
তবে যারা দলীয় প্রতীকের ব্যানারে দাঁড়াচ্ছে না বা যারা দল করছে তাদের প্রভাব এর ফলে অনেকটাই কমে যাবে। গণতন্ত্রের যে ধরণ প্রচলিত রয়েছে তা আরো বেশি সংকীর্ণ হয়ে পড়বে। দলের বাইরে আর কারো জন্যই তখন নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা ইতিবাচক হবে না।
শুধু দলের বাইরের লোকজনই নয় এই সমস্যার মুখোমুখি হবে অনেক নারী প্রার্থীরাও। দলীয় মনোনয়নের কারণে অনেক সাধারণ কোনো দলবিহীন নারী এরপর আর নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। দলের মনোনয়ন ও দলের পছন্দের বাইরে অন্যদের এই ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ অনেকাংশেই কমে যাবে।
তাছাড়া এর ফলে দলীয় পর্যায়ে যেসব সংকীর্ণতা রয়েছে তা অনেকাংশেই স্থানীয় পর্যায়েও সংক্রমিত হবে বলেও মনে করেন তিনি। বলেন, দলীয় রাজনীতির যে দিক আমরা দেখে দেখে অভ্যস্থ তার অনেকখানি প্রভাব এরপর থেকে আমরা স্থানীয় সরকারেও দেখতে পাবো। সেটা নিশ্চয়ই আমাদের জন্য ইতিবাচক কিছু হবে না।







