জুলাই মাস এলেই ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে ছড়িয়ে পড়ে গ্রীষ্মকালীন দলবদলের উত্তাপ। চলে আগস্ট পর্যন্ত। সময়টাতে মূলত বড় ক্লাবগুলোই গরম করে রাখে দলবদলের হাট-বাজার।
২০১৮-১৯ মৌসুমের দলবদল চলছে এখনো। চলবে লিগ শুরুর আগ পর্যন্ত। এরইমধ্যে কেনাকাটা সেরেও ফেলেছে অনেক ক্লাবই। দেখে নেয়া যাক, কাকে কোন ক্লাব থেকে নিজেদের ডেরায় ভেড়াল জায়ান্ট ক্লাবগুলো!
রিয়াল মাদ্রিদ
ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ তারকা ভাবা হচ্ছে যাকে, সেই ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে আগে থেকেই কেনা ছিল রিয়ালের। নতুন মৌসুমে তাকে মাঠে নামানোর ছাড়পত্রও পাচ্ছে লস ব্লাঙ্কোসরা। সঙ্গে আন্দ্রি লুনিন ও আলভারো অদ্রিওজোলাকে দলে ভিড়িয়ে নিজের শক্তি বাড়িয়েছেন রিয়াল কোচ হুলেন লোপেত্তেগি। তিনি নিজেও এই মৌসুমেই রিয়ালে এসেছেন।
তবে আসল শূন্যস্থান এখন পর্যন্ত পূরণ করা হয়নি রিয়ালের। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জায়গায় কে হবেন লস ব্লাঙ্কোসদের আক্রমণের নতুন কাণ্ডারি, তার খোঁজে রাতের ঘুম হারানোর দশা রিয়াল কর্তাদের! হ্যারি কেন, মাউরো ইকার্দি ও রবার্তো লেভান্ডোভস্কি তালিকায় থাকলেও কারও দল পরিবর্তনের সম্ভাবনা এখনও জোরাল করতে পারেনি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা।
কেইলর নাভাসের জায়গায় নতুন গোলরক্ষক হিসেবে ইউক্রেনের ১৯ বছর বয়সী আন্দ্রি লুনিনকেই কেবল পেয়েছে রিয়াল। চেলসির বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে কেনার কথা থাকলেও তাকে পাওয়া হয়নি। একই দল থেকে এডেন হ্যাজার্ডকেও পাওয়া হয়নি রিয়ালের।
বার্সেলোনা
কোচ আর্নেস্টো ভালভার্দের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা মিডফিল্ডে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও পাউলিনহোর যোগ্য উত্তরসূরি খুঁজে বের করা। এ লক্ষ্যে ব্রাজিলের দুই মিডফিল্ডার আর্থার মেলো ও ম্যালকমকে কিনলেও বার্সা কোচের মন ভরেনি।
উইলিয়ান, আদ্রিয়ান রাবিওতঁ ও পল পগবার পেছনে এখনও ছুটে মরছে বার্সা। তালিকায় আছে বায়ার্ন মিউনিখের চিলিয়ান মিডফিল্ডার আর্তুরো ভিদালের নামও।
তবে রক্ষণে মনমত একজনকে পেয়েছে কাতালান ক্লাবটি। ফরাসি সেন্টারব্যাক ক্লেমেন্ত ল্যাংলেট দলে টানা হয়ে গেছে তাদের। তালিকায় আছে আর কিছু নাম।
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ
থমাস লেমার, গেলসন মার্টিন্স, রদ্রি এবং সান্তিয়াগো আরিয়াসের মতো খেলোয়াড়কে পেয়ে বেশ তৃপ্ত অ্যাটলেটিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনে। এরপরও ফরোয়ার্ড লুসিয়ানো ভিয়েত্তো ও কেভিন গামিরোকে পাওয়ার চেষ্টায় আছেন তিনি।
ম্যানচেস্টার সিটি
গতবার বাজার গরম করে রাখা ম্যানসিটি এবার দলবদলে বেশ নিশ্চুপ। যদিও লেস্টার সিটি থেকে রিয়াদ মাহরেজ ও ফিলিপে স্যান্ডলারকে নিয়ে এসেছেন সিটিজেন কোচ পেপ গার্দিওলা। কিন্তু এতেই যে তার খেলোয়াড় কেনার ইচ্ছা শেষ হয়ে গেছে এমনও নয়। একদম শেষ মূহুর্তে যেকোনো চমক দিতে পারেন তিনি।
চেলসি
নাপোলি থেকে আসার সময় ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার জর্জিনহোকে নিয়ে এসেছেন নতুন চেলসি কোচ মাউরিসিয়ো সারি। এর বাইরে তেমন আর নতুন খেলোয়াড় কেনা হয়নি ব্লুজদের। উইলিয়ান, হ্যাজার্ড, কোর্তোয়া যদি দল ছাড়েনই তবে তাদের বিকল্প কে হবেন সেটাই এখন দলটির বড় দুশ্চিন্তা।
জুভেন্টাস
এবারের দলবদলে সবচেয়ে বড় চমকটা দেখিয়েছে জুভেন্টাস। একটা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে তুরিনের জায়ান্টরা শত মিলিয়ন ইউরো খরচ করে নিয়ে এসেছে রোনালদোকে। এসি মিলান থেকে ফিরছেন পুরনো যোদ্ধা লিওনার্দো বোনুচ্চি।
তবে এই মৌসুমেই দল ছেড়েছেন গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন। তারও ইচ্ছা কিন্তু ওই একই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়। জুভদের সদ্য সাবেক অধিনায়কের নতুন ঠিকানা পিএসজি।
পিএসজি
এক বুফনকে কেনা ছাড়া আর কাউকেই কেনেনি লিগ ওয়ান জায়ান্টরা। তবে নেইমার ও কাইলিয়ান এমবাপেকে ধরে রাখাটাই আপাতত সবচেয়ে বড় সাফল্য পিএসজির! রাবিওতঁ ও গঞ্জালো গুইডেস দল ছাড়লে তখন অবশ্য নতুন খেলোয়াড় কিনতেই হবে তাদের।
বায়ার্ন মিউনিখ
মিডফিল্ডার লিওন গোরেৎজকা ও কোচ নিকো কোবাচকে আনা ছাড়া আর কোনো চাহিদা নেই জার্মান চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন মিউনিখের। অন্যদিকে থিয়াগো আলকানতারা ও হামেস রদ্রিগেজ নতুন মৌসুমেও বাভারিয়ানদের হয়ে খেলবেন কিনা সেটার নিশ্চয়তা পায়নি দলটি।







