গতকাল রাজধানীতে মৌসুমের প্রথম তীব্র শীত অনুভূত হয়েছে। তখন থেকে হিমেল বাতাসে কাঁপন ধরিয়েছে হাড়ে। শীতের মৌসুমে শীত পড়বে এটা স্বাভাবিক হলেও গত কয়েকবছর বৈশ্বিক আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে ঢাকা শহরে শীতই অনুভূত হয়নি। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ঋতুবৈচিত্র্য হারিয়েছে। গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম আর বর্ষাকালে অতি বৃষ্টি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বয়ে আনে। এবার রাজধানীসহ জেলা শহরগুলোতে শীতের প্রকোপ তেমন থাকবে না মনে করা হয়েছিল। কিন্তু ডিসেম্বরের মাঝামাঝি শৈত্যপ্রবাহের মধ্যদিয়ে শীতের আগমন ঘটেছে। কেবল ঢাকা নয় সারাদেশেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে।
আরও দু’দিন তাপমাত্রা কমতে থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এসময় তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসবে। আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর, পঞ্চগড়, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, নীলফামারী জেলায় আগামীকাল থেকে কুয়াশা আরও বাড়বে। সেই সাথে রয়েছে শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা। ওই অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ হলে রাজধানীতেও তার প্রভাব পড়বে। দিন যত যাবে শীতের মাত্রা ততো বাড়তে থাকবে।দিনাজপুরে আজ বেশ ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে। একই সঙ্গে বইছে মৃদু বাতাস। গতকাল সকালে সূর্যের তেজ ততটা ছিল না। বিকেলের দিকে সূর্যের তেজ কিছুটা বাড়ে। তবে আজ সূর্য উঁকি দেয়নি বললেই চলে।
দুই দিন ধরে তাপমাত্রা কমছে জানিয়ে দিনাজপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন: দিনাজপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েক দিনে এ তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে।
এই শীতে উত্তরাঞ্চলের মানুষদের জীবনে যেনো দুর্ভোগ নেমে না আসে সেজন্য এখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। প্রতি শীতে দেশের গরীব মানুষ মানবতের জীবন যাপন করে। উন্নয়নের কথা যদি সঠিক হয়ে থাকে তবে যেন মানুষের দুর্ভোগ নিয়ে কেউ কোনো রাজনীতি করতে না পারে। উত্তরাঞ্চলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহে স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এই বিরূপ আবহাওয়ার সময়টা সরকারকে আন্তরিকতার সাথে দেখতে হবে। শীতের সময় জনস্বাস্থ্যের প্রতি নজর দেয়ার এখনই সময়।








