তামাক নিয়ন্ত্রণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন পাবলিক হেলথ ল’ইয়ার্স নেটওয়ার্ক।
জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা সংগঠনটির সদস্য সচিব সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নিশাত মাহমুদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, ‘ধূমপান ও তামাকের ব্যবহার হতে জনগণকে রক্ষা করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। বাংলাদেশ সংবিধানের ১৮ (১) অনুচ্ছেদে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির সকল পণ্য নিষিদ্ধের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে প্রদান করা হয়েছে। ধূমপান নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার আইন প্রণয়ন করেছে। কিন্তু সে আইনের নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আইনের বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এ জন্য আইনটির সংশোধন জরুরি।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিভিল আপিল নং ২০৪-২০৫/২০০১ এ প্রদত্ত রায়ে বাংলাদেশে যৌক্তিক সময়ে তামাক ব্যবহার কমিয়ে আনতে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। একই রায়ে দেশে তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের নতুন কোন কোম্পানি অনুমোদন প্রদান না করার এবং বিদ্যমান তামাক কোম্পানিগুলোকে অন্যান্য দ্রব্য উৎপাদনের সহযোগিতা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া ওই রায়ে ধূমপানমুক্ত স্থানে ধূমপানের জন্য ব্যবস্থা না রাখার ব্যাপারেও নির্দেশনা প্রদান করেছে। তবে আমরা জনস্বাস্থ্য রক্ষার্থে সচেষ্ট আইনজীবীরা গভীর উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ করছি দেশে বিদ্যমান ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইন এবং অন্যান্য আইনের প্রতিপালনের সীমাবদ্ধতার কারণে তামাকজাত পন্যের প্রচুর বিজ্ঞাপন হচ্ছে। রেষ্টুরেন্টগুলোতে ধূমপানের স্থান তৈরি হচ্ছে। ই- সিগারেট মতো ক্ষতিকর পণ্যের প্রসারের লক্ষ্যে কাজ করছে কতিপয় স্বার্থগোষ্ঠী যা বাংলাদেশের সংবিধান এবং আপিল বিভাগের নির্দেশনার পরিপন্থি।’
দেশে অসংক্রামক রোগের কারণে ৭০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হয় উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, অসংক্রমাক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে তামাক ব্যবহার। তামাক ব্যবহার মানবদেহে ফুসফুস ক্যান্সার এবং মুখের ক্যান্সারের অন্যতম প্রধান কারণ। ২০১৮ সালেই তামাক ব্যবহারজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে ৩০,৫৭০ কোটি টাকা। তাই এই বিশাল ক্ষতি হতে নাগরিকদের রক্ষায় আপিল বিভাগের নির্দেশনা প্রতিপালন জরুরি। আর ধূমপানের ক্ষতি হতে তরুণদের বিরত রাখতে এবং অধূমপায়ী, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের রক্ষায় সরকার আইন সংশোধনের মাধ্যমে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’








