সিরাজুল আরিফিন। বাংলা ভাষা নিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় রিয়্যালিটি শো ‘ইস্পাহানি মির্জাপুর বাংলাবিদ’-এ হয়েছেন প্রথম রানার আপ। রোববার চ্যানেল আই অনলাইনের সাথে কথা বললেন তিনি। জানালেন এমন মঞ্চে নিজের অভিজ্ঞতার কথা।
বাংলা ভাষা নিয়ে প্রথম রিয়্যালিটি শো-এর প্রথম রানারআপ। কেমন লাগছে?
ভালো। তবে সেরা দশে যখন আসলাম তখন কিছুটা চিন্তা মুক্ত ছিলাম। কিন্তু মাঝখানে এসে আমি ধীরে ধীরে পয়েন্টের নিচের দিকে নামছিলাম। সেরা ছয়ে আমার অবস্থান ছিল পাঁচ। তখন আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি ছিল। ভেবেছিলাম কেন আমি পিছিয়ে পড়ছি। তারপর ভাবলাম চেষ্টা করলে হয়তোবা ভালো করা সম্ভব। এরপর চার রাউন্ড পর গিয়ে বুঝলাম কিছু একটা হচ্ছে। তবে পেছন থেকে যে কেউ উঠে আসতে পারে সেটা বুঝতে পারিনি। প্রথমে এতো ভালো ছিলাম কিন্তু পরে হেরে গেলাম, তাই একটু খারাপ লাগছে।
বিজয়ীর সঙ্গে আপনার পয়েন্টের ব্যবধান ছিল মাত্র ১। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
চূড়ান্ত পর্ব শেষ করে ক্যাম্পে এসে পুরো রাত ঘুমাতে পারিনি। ১ পয়েন্টের জন্য হেরে যাওয়ার আক্ষেপ থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পরে ভাবলাম ৩৫ হাজার প্রতিযোগী থেকে প্রথম রানারআপ হওয়া সত্যিই অনেক বড় ব্যাপার। তাই এখান থেকে আক্ষেপটা মনে না রাখাই ভালো।
আপনার জীবনে কোন পরিবর্তন এসেছে বলে কী মনে হচ্ছে?
অবশ্যই। চূড়ান্ত পর্বের পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এসেছে। আর অবিরাম ক্ষুদে বার্তা তো আসছেই। তখন মনে হল কিছু একটা তো হয়ে গেছে। আমি তো যেমন ছিলাম তেমনই আছি। তবে আমার মধ্যে দায়িত্ববোধ চলে আসছে। আমি চাইলেই এখন আর ভুল বাংলা বলতে পারব না। ভুল কাজ করতে পারব না। সমাজের জন্য আমার ভাষার জন্য দায়িত্ববোধ তৈরি হয়েছে।
দ্বিতীয় রানারআপের নাম ঘোষণার পর কী মনে হয়েছিল?
দ্বিতীয় রানারআপের নাম ঘোষণার পর ভেবেছিলাম আমি প্রথম এবং নুসরাত দ্বিতীয় হবে। আসলে আমার হিসেবে ভুল ছিল। আমি ভেবেছিলাম আমি নুসরাতের থেকে এগিয়ে আছি। যেই ভাবছি হাততালি দিব প্রথম রানারআপ নুসরাত বলবে বলে, কিন্তু দেখি আমার নামই ডাকল প্রথম রানারআপে।
সেরা দশে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী কাকে মনে হতো?
প্রতীক পনতীর্থ, সোয়েব সানিয়াদ খান ও রাইসা সালসাবিল। এরা সবসময় বই নিয়ে থাকত।
এমন মঞ্চে একদিন নিজেকে উপস্থাপন করবে এটা কি কখনও ভেবেছিলেন?
আসলে আমি ইউটিউবে বিল গেটস, স্টিভ জবস এদের ভিডিওগুলো দেখতাম। তখন ভাবতাম এমন কিছু যদি আমি করতে পারতাম। তখনও বাংলাবিদ শুরু হয়নি। আমি থাকতাম মফস্বলে। তাই মনে হতো এইগুলো অসম্ভব। কিন্তু যখন বাংলাবিদ মঞ্চে আমি আসলাম এবং ধীরে ধীরে নিজেকে ভালোর দিকে নিয়ে যেতে থাকলাম। তখন মনে হলো এভাবে যদি নিজেকে ধরে রাখতে পারি তাহলে খ্যাতি আসবেই।
ভবিষ্যতে বাংলা নিয়ে কী করার ইচ্ছে আছে?
আমার ইচ্ছে আছে বাংলা সফটওয়্যার বানানোর। আর কিছু পারি আর না পারি বাকিটা জীবন বাংলা বলার চেষ্টা করব। কারণ এই কাজটি অনেক বেশি কঠিন।
বাংলাবিদ-এর পুরো যাত্রা কেমন ছিল?
খুব ভালো। আমি বাংলাবিদ এবং পুরো ক্যাম্পের সবাইকে অনেক মিস করব। একসঙ্গে খেতে যাওয়া, আড্ডা দেওয়া, নাম্বার কেটে গেলে মন খারাপ করা, বিচারকদের কথাসহ বাংলাবিদ সবাই খুব মনে পরবে।
পুরস্কারের অর্থ দিয়ে কী করবে?
আমার পড়ালেখার পেছনে খরচ করব। আমার দেশের বাইরে পড়তে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। আর দেশের মানুষের জন্য কিছু একটা করতে চাই।
রাতারাতি খ্যাতি পেয়ে কেমন লাগছে?
চূড়ান্ত পর্ব শেষ করে ক্যাম্পে আসার জন্য যখন গাড়িতে উঠছিলাম তখন অনেকেই আমার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য দৌড়ে আসছিল। এমন অবস্থা আসলে তারকাদের ক্ষেত্রে দেখেছি আগে। তাই বিষয়টি ভালো লাগছে। আর খ্যাতি কে না চায়?
ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছে আপনার। পাশাপাশি আর কিছু ইচ্ছে আছে কী?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হওয়ার ইচ্ছে আছে।
নিজের সম্পর্কে কিছু বলুন?
আমার সবকিছুই সাতক্ষীরাতে। দুই ভাইয়ের মধ্যে আমি ছোট। এখন সাতক্ষীরা শহরের একটি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথমবর্ষে পড়ছি। আর ব্যক্তি আরিফিনের কথা বললে নতুন কিছুকে সহজে মেনে নিতে পারি আমি। তবে কোন কিছুর উপর মাঝে মাঝে ঈর্ষা হয়।
ছবি: ওবায়দুল হক তুহিন








