ব্রাজিলে ডেঙ্গু, জাইকা ও চিকুনগুনিয়া– এ তিনটি মশাবাহিত রোগ একসঙ্গে দেখা দিয়েছে। আক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়ে সহজে সনাক্ত করা যায় না বলে এগুলো ছড়িয়ে পড়ছে দ্রুত এবং মারাত্মকভাবে।
সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যাপার হলো, রোগ তিনটি ছড়াচ্ছে একই মশার কামড়ে। মশাটির বৈজ্ঞানিক নাম এডিস এজিপটি। একে আমরা সাধারণভাবে চিনি এডিস মশা হিসেবে।
ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, মানবদেহে রোগ তিনটির জন্য দায়ী ভাইরাসের উপস্থিতি দ্রুত সনাক্ত করার জন্য নতুন ধরণের কিছু পরীক্ষা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে তারা। এক্ষেত্রে ভাইরাস সংক্রমণ পরীক্ষার জন্য গর্ভবতী নারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মারসেলো কাস্ত্রো।
নতুন পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত রোগ নির্ণয় করা যাবে এবং এতে আক্রান্তদের কম সময়ের মধ্যেই সঠিক চিকিৎসা সেবা দেয়া যাবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।
জাইকা রোগের স্মরণকালের সবচেয়ে বড় মহামারিটিই বর্তমানে দেখা দিয়েছে ব্রাজিলে। এর ফলে বহু শিশু জন্মগত ত্রুটি নিয়ে পৃথিবীতে আসছে।
গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে ৩ হাজারের বেশি শিশু মাইক্রোএনসেফালি রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করেছে। এ রোগে মাথার আকার ছোট হয়ে যায় এবং মস্তিষ্ক অপরিণত অবস্থায় থাকে। অথচ পুরো ২০১৪ জুড়ে এ রোগে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ছিলো দেড়শ’রও কম।
জাইকার প্রতিষেধক আবিষ্কারের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দেরও ঘোষণা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাস্ত্রো। ‘রেকর্ড সময়ের মধ্যে’ প্রতিষেধক টিকা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে গবেষকদের কাজ করতে বলেন তিনি।
তবে বর্তমানে জাইকাসহ অন্যান্য মশাবাহিত রোগগুলোর সঙ্গে লড়াই করার একটাই উপায় রয়েছে। আর তা হলো বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা। এগুলোই মশার বংশবৃদ্ধির স্থান।






