১১ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চারটি বিষয়ে দাবি জানানোর আহ্বান জানিয়েছে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চ’।
শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান এর নেতৃবৃন্দ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উপস্থাপনকৃত ৪ টি বিষয় হলো- ১. সভাপতির ক্ষমতার ভারসাম্য, ২. শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে সভাপতি নির্বাচন, ৩. নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়বদ্ধতা, ৪. ভোটকেন্দ্র কোথায় হবে তা নিয়ে গণভোটের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মতামত গ্রহণ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চের মুখপাত্র মওদুদ মিষ্ট। এতে বক্তব্য রাখেন অধিকার মঞ্চের আইনজীবী মনজিল মোর্শেদ, মঞ্চের অন্য দুই মুখপাত্র নূর বাহাদুর ও নুরে আলম দুর্জয়। এছাড়া এতে মঞ্চের নেতা তোহা ফারুকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মনজিল মোর্শেদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৮ বছর ধরে কেন ডাকসু নির্বাচন হয়নি- এটা সবার প্রশ্ন। আমার মতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা তাদের ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য নির্বাচন দেননি। রিট করার পর শুনানিতে বিভিন্ন উপাচার্যের আইনজীবীরা আদালতে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন যে রায় বিলম্বিত হয়েছে। তবে বর্তমান উপাচার্যের আইনজীবী এমন কোনো আচরণ করেননি- উল্লেখ করে তাকে ধন্যবাদ জানান।
তিনি বলেন, শুধু উপাচার্যরা চাইলেই ডাকসু নির্বাচন হবে না। এজন্য ছাত্রদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আদালতে এমনও কথা উঠেছিল যে, ‘নির্বাচন হলে ক্যাম্পাসে রক্তের বন্যা বয়ে যাবে।’ তখন আমরা বলেছি, ‘তাই বলে কি নির্বাচন হবে না?’ তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আইজিপির স্মরণাপন্ন হয়ে নির্বাচন করা যেতে পারে। সকল ছাত্র সংগঠনই ডাকসু নির্বাচন চায়। সবাই চাইলেই নির্বাচন সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র নিয়ে অধিকার মঞ্চের অবস্থান জানতে চানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে সহাস্থান নিয়ে বিতর্কের কারণেই আজ ভোটকেন্দ্র নিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ সংগঠনই হলের বাইরে ভোটকেন্দ্র চেয়েছে। কিন্তু প্রশাসন তাদের কথা শোনেনি। যদি ভোট হলেই হয়, তবে প্রশাসনকে সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে হবে। যদি তা না নয়, তবে ভোটকেন্দ্র নিয়ে বিতর্ক থেকেই যাবে।
লিখিত বক্তব্যে মওদুদ মিষ্ট বলেন, ডাকসুর বর্তমান সংবিধানে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে আন্দোলন ও অবস্থান নেওয়ার ক্ষমতা কতটা দেওয়া আছে সেটি খতিয়ে দেখা দরকার। বলা হচ্ছে- ইউনিয়নটি শিক্ষার্থীদের। অথচ এর চূড়ান্ত ক্ষমতা উপাচার্যের হাতে। তিনি সর্বেসর্বা-একনায়ক!
মওদুদ মিষ্ট আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ডাকসুর সভাপতি হওয়া উচিত নয়। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ডাকসুর সভাপতি কমিটি বাতিল কিংবা নির্বাচন স্থগিত রাখার ক্ষমতা রাখেন। এটি মুক্ত চিন্তা ও জ্ঞানচর্চায় প্রতিবন্ধক যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। উপাচার্য দলীয়ভাবে নিয়োগ পান। একারণে তিনি দলীয় সিদ্ধান্তই তিনি শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেন। একারণে ডাকসুর সভাপতি হিসেবে উপাচার্যের থাকা উচিত নয়। এছাড়াও যারা ছাত্রদের মধ্য থেকে নির্বাচিত হবেন শিক্ষার্থীদের কাছে তাদের দায়বদ্ধতার ব্যবস্থা রাখতে হবে।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি ডাকসু ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি ঘোষণা করে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চ’। ওই বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এ মঞ্চ গঠিত হয়। তবে ছাত্র সংসদের দাবিতে একটা সাধারণ প্লাটফর্ম করার চিন্তা-ভাবনা শুরু হয় ২০১১ সালের জুলাই থেকেই। কর্মসূচি ঘোষণার পর ২০১২ সালের মার্চে শিক্ষার্থীরা ডাকসু ও হল সংসদের সংবিধানটি উদ্ধার করতে সমর্থ হয়। শুরুর দিকে এই মঞ্চ আদালতে ২৫ শিক্ষার্থীর রিট করতে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। সেই রিটের সূত্র ধরেই আগামী ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।








