আজকাল তরুণ প্রজন্ম এবং সেলিব্রেটির কাছে ট্যাটু বা উল্কি বেশ জনপ্রিয় একটা বিষয়। কাঁধের এক পাশে প্রিয়জনের নামের প্রথম অক্ষর অথবা অর্থপূর্ণ কোনো শব্দ কিংবা বাহুতে আগুনমুখো ড্রাগনের ছবি ছাড়াও পায়ের গোড়ালি পেঁচিয়ে আঁকা কিছু ফুল-লতাপাতার ছবি- এসব অনেকেরই পছন্দ। অনেকটা ভারতীয় কালচারের প্রভাবেই এটা বাংলাদেশেও এখন জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
আর এর চাহিদার কথা বিবেচনা করেই ঢাকায় এখন গড়ে উঠছে ট্যাটু পার্লার, যেখানে আঁকানো যাবে মনের মতো ট্যাটু।
কিন্তু শুরুর দিকে ভারতে ট্যাটুর প্রচলন ছিল একদম ভিন্ন। ভারতে ট্যাটুকে মনে করা হত স্বাধীনতা এবং বিদ্রোহের প্রতীক। সেই সময় ভারতের অনেক নারীকে ট্যাটু করতে বাধ্য করা হতো। এমনকি বিয়ের সময় বাধ্যতামূলক ট্যাটু করতে হতো শরীরের বিভিন্ন জায়গায়। আর ট্যাটু ছিল ঐ সময়ে সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি পরিচয়। যদি কোনো মেয়ে তখন শরীরে ট্যাটু না করত তাকে যৌন নিপীড়নের স্বীকার হতে হতো।
ভারতের লখনৌ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতাত্ত্বিক কেয়া পাণ্ডের গবেষণায় উঠে আসে,সেই সময় উপজাতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি ট্যাটুর প্রচলন ছিল। আর ডিজাইন হিসেবে তারা উদ্ভিদ ও প্রাণীর ছবি আঁকাতে পছন্দ করত।এমনকি বন্দী, চাকর ক্রীতদাস এবং জাতি চিহ্নিত করার জন্য ট্যাটু ব্যাবহার করা হত। অনেক সময় একটি নারীর বাবা বা স্বামীর নামের মালিকানা বোঝাতে ট্যাটু ব্যবহার হত।

ট্যাটু করার প্রক্রিয়াটা ছিল খুব কষ্ট সাধ্য ও যন্ত্রণাকর। একটি বড় আকৃতির সুচ আগুনে তাপ দিয়ে শরীরের উপর ডিজাইন করা হতো। আর সুস্থ হতে প্রায় একমাস সময় লেগে যেত। এতে অনেক সময় ইনফেকশন হয়ে মারা যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকত। ট্যাটু করার সময় কেউ কতটুকু যন্ত্রণা সহ্য করতে পারেন তার ভিত্তিতে সাহস নির্ধারণ করা হতো।
যদি কেউ ট্যাটু করাতে না চান কিংবা অর্ধেক ট্যাটু করে পালিয়ে আসেন তবে তা ভয়ানক অপরাধ। তার জন্য পরিবারকে একঘরে করে দেওয়া হত। কেউ অভিযোগ করতে চাইলে তাকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হত। বিশেষত উপজাতীয় অঞ্চলের পুরুষ এবং মহিলারা ট্যাটু বেশি পরত।
প্রাচীনকালে উল্কি ছিল জীবন এবং মৃত্যুর পরের একটি প্রতীক। এবং নারীদের বৈবাহিক অবস্থা বোঝানোর একটি দিক। সেই সময় তারা মনে করত মৃত্যুর পরেও তাদের এই উল্কি দেখে তাদের পরিচয় নির্ণয় করা হবে। কিন্তু বর্তমানে অনেক অল্পবয়সী মেয়েরা অনেক বেশি ট্যাটুর দিকে ঝুঁকছে। ক্রমাগত আধুনিকতা ও উন্নয়নের সাথে যোগাযোগ বাড়ার জন্য ভারতের উপজাতীয় ও গ্রামীন এই অভ্যাসগুলোর পরিবর্তন আসছে। কেয়া পান্ডে বলেন, ভারতের গ্রামীন মেয়েরা এখন আর ট্যাটু করাতে আগ্রহী না। সময়ের পরিবর্তনে আজকাল এসব ট্যাটুর নিয়মনীতি কমে গিয়েছে সেখানে।
এছাড়াও উল্কির জনপ্রিয়তার সাথে সাথে এর স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও এসে যায়। একজনের জন্য ব্যবহার করা সূঁচ অন্যের শরীরে ব্যবহার করলে রক্তবাহিত রোগ ও ভাইরাল রোগ যেমনঃ হেপাটাইটিস, হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস, এইচ আই ভি, টিটেনাস হতে পারে। তাছাড়া ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন তো আছেই। এজন্য আমেরিকায় কয়েক দশক আগে বিভিন্ন ট্যাটু পার্লার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। -বিবিসি







