ইতালির নাগরিক টাভেলা সিজার হত্যার নির্দেশদাতা ‘বড়ভাই’ বিএনপির সাবেক কমিশনার আবদুল কাইয়ুম বলে সন্দেহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
দুই একদিনের মধ্যে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো হবে বলে মঙ্গলবার রাতে কয়েকটি গণমাধ্যমকে এমন তথ্য জানান তিনি।
তবে মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, হত্যায় জড়িতদের মধ্যে যারা দেশে রয়েছে তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে। এদের মধ্যে যদি কেউ বিদেশে পালিয়ে গিয়ে থাকে; তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। আর যারা দেশে রয়েছেন তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছে।
দেশে আইএস এ হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে কিনা সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবারো বলেন, আইএস এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়নি। এর পেছনে দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্র দায়ী।
এর আগে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) টাভেলা হত্যায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেফতারের পর ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির উদ্দেশে এক ‘বড়ভাই’র নির্দেশে ভাড়াটে খুনিরা টাভেলাকে হত্যা করে।
‘তবে সুনির্দিষ্টভাবে টাভেলা তাদের টার্গেট ছিলো না, তাদেরকে ভাড়া করা হয়েছিলো একজন বিদেশীকে হত্যা করার জন্য।’
হত্যাকাণ্ডের পরপরই আইএস দায় স্বীকার করেছে বলে জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘সাইট ইন্টেলিজেন্স গ্রুপ’ খবর দিলেও শুরু থেকেই তা অস্বীকার করে আসছিলো পুলিশ এবং সরকার। চারজনকে গ্রেফতার করার পরও একই কথা বলেছে পুলিশ।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতেই ইটালিয়ান নাগরিক টাভেলা সিজারকে হত্যা করা হয়, হত্যার পেছনে ছিলেন এক ‘বড়ভাই’, প্রকৃত অপরাধীকে আড়াল করতেই আইএস নাটক সাজানো হয়।
রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে তিন হত্যাকারীসহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ। উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল।
গ্রেফতারদের মধ্যে ‘ভাগ্নে’ রাসেল, ‘চাকতি’ রাসেল এবং ‘শুটার’ রুবেল সরাসরি ‘কিলিং মিশনে’ অংশ নেয় বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। আর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটিও উদ্ধারের সময় এর মালিক শরীফ নামে আরো একজনকে আটক করা হয়।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানে গুলি করে হত্যা করা হয় উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কর্মকর্তা টাভেলা সিজারকে।







