কলম্বিয়ায় ব্রাজিলের ফুটবল দলসহ প্লেনটিতে জ্বালানী ছিল না বলে সেটি জরুরি অবতরণের সময় বিধ্বস্ত হয়ে যায় – এমন একটি ব্যাখ্যার দিকেই অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যগুলো এগোচ্ছে বলে জানিয়েছে কলম্বিয়া কর্তৃপক্ষ।
দেশটির সিভিল এভিয়েশনের প্রধান আলফ্রেদো বোকানেগ্রা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এখন স্পষ্টভাবেই মনে হচ্ছে, পাহাড়ের গায়ে আঘাত করার সময় প্লেনটিতে কোনো জ্বালানীই ছিল না।
ওই সংবাদ সম্মেলনেই সিভিল এভিয়েশন কর্মকর্তা ফ্রেডি বোনিলা বলেন, সাধারণত প্রতিটি উড়োজাহাজেই কমপক্ষে ৩০ মিনিট চলার মতো অতিরিক্ত জ্বালানী থাকা বাধ্যতামূলক। যেন জরুরি অবস্থায় কাছাকাছি কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ করা যায়। কিন্তু এই প্লেনটিতে তা-ও ছিল না।
নতুন এই তথ্যটি প্রকাশের কিছু আগেই ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিং থেকেও একই কথা জানা যায়। ওই রেকর্ডিংয়ে উড়োজাহাজটির পাইলটকে বারবার বৈদ্যুতিক ত্রুটি এবং জ্বালানী সঙ্কটের কারণে জরুরি অবতরণের অনুমতি চাইতে শোনা যায়।
প্রাথমিক তদন্তেও এমন ধারণাই করা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, উড়োজাহাজটিতে জ্বালানি মজুদ রাখার যন্ত্র ‘সম্ভবত’ ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি সংকট দেখা দেয়। একই সঙ্গে বৈদ্যুতিক সংযোগেও ব্যাঘাত ঘটেছিল।

ফাঁস হওয়া রেকর্ডিংটি পাইলট এবং একজন কলম্বিয়ান এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের মধ্যকার আতঙ্কপূর্ণ কথপোকথনের প্রকাশ। সেখানে পাইলট বারবার ‘বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিকল’ এবং ‘জ্বালানি সঙ্কট’ থাকার কথা বলতে থাকেন।
রেকর্ডিংটি শেষ হওয়ার ঠিক আগেই পাইলট বলেন, তার প্লেনটি ভূমি থেকে মাত্র ৯ হাজার ফুট উঁচুতে উড়ছে।
উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার সময় কোনো বিস্ফোরণ না হওয়াও জ্বালানি না থাকার দিকেউ নির্দেশ করে বলে কলম্বিয়ার একটি সামরিক সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে। জ্বালানি না থাকার এই ঘটনাকে ‘সন্দেহজনক’ বলে উল্লেখ করেছে সূত্রটি।
ব্রাজিলীয় ক্লাব শ্যাপেকোয়েনসের ফুটবলারসহ ৭৭ আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত হয় প্লেনটি। এর মধ্যে মাত্র ৬ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ফুটবলারসহ ৭১ জনের প্রাণহানিতে তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে ব্রাজিল। শোকে স্তব্ধ কলম্বিয়ানরাও। ব্রাজিল এবং কলম্বিয়া রাস্তায় রাস্তায় শ্যাপেকোয়েনসের সবুজ জার্সিতে শোক পালন করছে জনগণ। শোক পুরো ফুটবল বিশ্ব জুড়েই।

কোপা সুদামেরিকানা কাপের ফাইনালে অ্যাটলেটিকো ন্যাশিওনালের বিপক্ষে কলম্বিয়ানদের অতিথি হওয়ার কথা ছিল ব্রাজিলের শাপেকোয়েনসে ক্লাবের। কিন্তু সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১০টার দিকে কলম্বিয়ার হিলসাইডে লা ইউনিয়নের কাছে দুর্ঘটনার শিকার হয় ফুটবলার-সাংবাদিকসহ ৭৭ আরোহী নিয়ে বহন করা ব্রিটিশ এরোস্পেস ওয়ান ফোর সিক্স। প্লেনটির সঙ্গে বিধ্বস্ত হয়ে গেল প্রথমবারের মতো বড় আসরের ফাইনালে খেলতে যাওয়া তরুণদের স্বপ্নগুচ্ছও।








