জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতির পর বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। তার এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমা বিশ্বের নেতারা। সমস্যা সমাধানে আলোচনার কথা বলেছেন তারা।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে বলেছেন: মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্তরাজ্য সরকার একমত নয়। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ওই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সহায়ক হবে না। ইসরায়েলে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস তেল আবিবকেন্দ্রিক এবং এটি সরানোর কোন পরিকল্পনা আমাদের নেই।
মে বলেন: জেরুজালেম নিয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার এবং দীর্ঘমেয়াদী। ইসরায়েল এবং প্যালেস্টাইনের মধ্যে আলোচনা করেই বিষয়টি নির্ধারিত হওয়া উচিত। চূড়ান্তভাবে জেরুজালেম ইসরায়েল এবং প্যালেস্টাইনের যৌথ রাজধানী হওয়া উচিত। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সমাধান অনুযায়ী আমরাও মনে করি পশ্চিম জেরুজালেম প্যালেস্টাইনের অধিকৃত অঞ্চল।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ বলেছেন: জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী করার বিষয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। তিনি যেকোন ধরনের সহিংসতা এড়াতে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের মুখপাত্র টুইট বার্তায় বলেছেন: বার্লিন কখনোই এ ধরনের অবস্থান সমর্থন করে না, কারণ একমাত্র দুটি রাষ্ট্রের সমাধান কাঠামোই বিষয়টি মিমাংসা করতে পারে।
চীন এবং রাশিয়াও এই বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। তারা বলেছে, এই পদক্ষেপ ওই অঞ্চলের উত্তেজনা তীব্র করতে ভূমিকা রাখবে।
পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন: কয়েকদিন ধরে বিষয়টি আলোচনায় আসায় আমি চুপ থাকতে পারি না। জাতিসংঘের সমাধান মেনে এই শহরের মর্যাদা রক্ষায় আমি সকলের প্রতি দৃঢ়ভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।
জাতিসংঘের মহাসচিব অান্টেনিও গুতেরেস বলেছেন: ট্রাম্পের বিবৃতি ইসরায়েল এবং প্যালেস্টাইনের মধ্যকার শান্তি আলোচনার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করবে। দুটি দেশের সমঝোতাই কেবল কোন চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে হলে দুই দেশের বৈধ সম্মতি নিতে হবে।
ইরোপীয় ইউনিয়নও পরিস্থিতি সমাধানের লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছে। এতে জেরুজালেম সম্যসা সমাধান এবং দুটি দেশের ভবিষ্যত রাজধানী নির্ধারণে কোন পথ অবশ্যই পাওয়া যাবে বলে মনে করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।








