ঘরের মাঠে রিয়ালের কোচ হিসেবে বড় ব্যবধানে এল ক্লাসিকো হারা মানে ছাঁটাইয়ের খাতায় নাম লেখানো। গত কয়েক দশক ধরে এটাই দেখে আসছে ফুটবলবিশ্ব। শনিবার বার্সার বিপক্ষে লা লিগার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৩-০ গোলে হারার পর তাই জিদানের পদ নিয়েও আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।
ক্লাবটির শেষ ৪৭ বছরের ইতিহাস বলছে ৩ বা তার অধিক ব্যবধানের হারের পর চাকরি বাঁচাতে পারেননি কোন কোচই, যার শুরুটা ছিল লুইস মোলোউনিকে দিয়ে। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে এল ক্লাসিকোতে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ৫-০ ব্যবধানে হেরে প্রথম দফা ছাঁটাই হবার পর ১৯৮৫-৮৬ মৌসুমে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নিয়ে ফের চাকরীচ্যুত হন মোলোউনি। সেবারের কারণটা ছিল ৪-০তে ঘরের মাঠের হার।
মোলোউনির ভাগ্য বরণ করতে হয় আমানসিও এবং ভ্যান্ডারলাই লুক্সেমবার্গোকেও। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে বার্নাব্যুর ডাগআউটে দাঁড়িয়ে দলের ৩-০ ব্যবধানের হার দেখতে হয়েছিল আমানসিওকে। ২০০৫-০৬ মৌসুমে লুক্সেমবার্গোকেও বরণ করতে হয় একই পরিণতি।
সবচেয়ে বাজে হার দেখতে হয় হুয়ান্ডে রামোসকে। ২০০৮-০৯ মৌসুমে পেপ গার্দিওলার দলের কাছে ৬-২ ব্যবধানে উড়ে গিয়েছিল রিয়াল। ফলাফল, ছাঁটাই!
যার চাকরিচ্যুতিতে কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন জিদান, সেই রাফা বেনিতেজকেও কিন্তু বিদায় নিতে হয়েছে এল ক্লাসিকোতে হেরে। তার দলের হারের ব্যবধানটা ছিল ৪-০ গোলের।
কেবল কোচই নন, ক্লাসিকোতে কালে কালে হারের মূল্য চোকাতে হয়েছে ক্লাব সভাপতিদেরও। আমানসিওর সঙ্গে পদ ছেড়েছিলেন তৎকালীন সভাপতি লুইস ডে কার্লোস। ২০০৮-০৯ মৌসুমে পদত্যাগ করেন ভিনসেন্টে বলুদা। বর্তমান সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ তার প্রথম মেয়াদে পদ ছেড়েছিলেন লুক্সেমবার্গোকে কোচ বানানোর কারণেই।
মিলিয়ান মিলিয়ানিচের পর একমাত্র কোচ হিসেবে মৌসুমের সবগুলো শিরোপা জেতার অবিশ্বাস্য রেকর্ড আছে কেবল জিদানেরই। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের একমাত্র কোচ হিসেবে দলকে জিতিয়েছেন টানা দুই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ।
রিয়ালকে বহু কাঙ্ক্ষিত ‘লা ডেসিমা’ বা দশমবারের মতো ইউরোপ সেরা করেছিলেন কার্লো আনচেলত্তিও। তবু চাকরি বাঁচাতে পারেননি ক্লাব ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই কোচ।
এবার বার্সার বিপক্ষে রিয়াল যখন হারল, তখন লা লিগার শিরোপা দৌড় থেকে দলটি এক প্রকার ছিটকে পড়েছে। পয়েন্ট টেবিলে মেসিদের থেকে ১৪ পয়েন্ট দূরে তারা। ইতিহাস বলছে এমন অবস্থায় জিদানেরও চাকরি থাকার কথা নয়!








