জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সিন্ডিকেট সদস্য, অর্থ কমিটি ও শিক্ষা পর্ষদে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন আগামী ৫ জুন অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্লাবে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এই নির্বাচনকে সামনে রেখে জমে উঠেছে ক্যাম্পাসের শিক্ষক রাজনীতি। পুরো প্যানেলকে জয়ী করতে রাত দিন প্রচার চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।
নির্বাচনে ৬টি ক্যাটাগরিতে (ডিন, প্রভোস্ট, অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক ক্যাটাগরি ) ৬ জন সিন্ডিকেট সদস্য, অর্থ কমিটিতে ১ জন এবং শিক্ষা পর্ষদে ৩টি ক্যাটাগরিতে (সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক ক্যাটাগরি) মোট ৬ জন শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
সিন্ডিকেট নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। অপরদিকে বিএনপির একাংশ, বামপন্থি ও আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের একটি অংশ ‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ’ প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। এছাড়া নির্বাচনে সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে দুইজন শিক্ষক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’ প্যানেল থেকে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে ডিন ক্যাটাগরিতে সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো: আমির হোসেন, প্রভোস্ট ক্যাটাগরিতে ফজিলাতুন্নেসা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মো: শাহেদুর রশিদ, অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে গণিত বিভাগের অধ্যাপক মো: লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ্, সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাজমুল হাসান তালুকদার, সহকারী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের মোসা: ফাহিমা আহমেদ এ্যানি, প্রভাষক ক্যাটাগরিতে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রভাষক সৈয়দা মরিয়ম লিজা প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
অর্থ কমিটিতে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফরিদ আহমদ। শিক্ষা পর্ষদে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সোহায়েল, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ ওসমান গণি, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ লুৎফর রহমান, সহকারী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির সহকারী অধ্যাপক মো. ওয়াহিদুজ্জামান, প্রভাষক ক্যাটাগরিতে সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম ও ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রভাষক মো: ইউসুফ হারুন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
‘সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ’ প্যানেল থেকে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে ডিন ক্যাটাগরিতে কলা ও মানবিক অনুষদের ডীন অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক, প্রভোস্ট ক্যাটাগরিতে বেগম খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ. এ. মামুন, সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ কে এম রাশেদুল আলম, সহকারী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ফজলুল হালিম রানা, প্রভাষক ক্যাটাগরিতে গণিত বিভাগের প্রভাষক মো. আল-আমিন খান প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
অর্থ কমিটিতে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি মো. মনোয়ার হোসেন। শিক্ষা পর্ষদে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ এমাদুল হুদা, পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শারমীন সুলতানা, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামছুন নাহার, সহকারী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাসুদা পারভীন, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. উম্মে সালমা যোহরা, প্রভাষক ক্যাটাগরিতে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ড. আবদুল মান্নান প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।
অপরদিকে নির্বাচনে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দুইজন শিক্ষক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহম্মদ গোলাম রব্বানী ও সহকারী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে ফার্মেসী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ফখরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
‘সম্মিলিত শিক্ষক’ প্যানেলের প্রার্থী এবং কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আমাদের প্যানেল থেকে আমরা আশাবাদী এ নির্বাচনে সংগরিষ্ঠতা পাব’।
এ বিষয়ে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’র সাধারণ সম্পাদক ও সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো: আমির হোসেন পুরো প্যানেলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করে চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা নেতৃত্বদানে সক্ষম, যোগ্য সৎ, কর্মতৎপর নিষ্ঠাবান শিক্ষকগণকে মনোনয়ন দিয়েছি। আশা করছি শিক্ষকরা সার্বিক দিক যোগ্য প্রার্থী হিসেবে আমাদের প্যানেলকেই নির্বাচিত করবেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে শিক্ষকরা তাদের মেধাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতিতে কাজে লাগবে বলে আশা করছি।’








