জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) র্যাগিং ও মাদক নির্মূলের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সমাজের সদস্যরা।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে শহীদ মিনারের সামনে ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’র ব্যানারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শরীফ এনামুল কবীরের নেতৃত্বে মানববন্ধনে প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষক অংশ নেন।
মানববন্ধনে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সভাপতি ও সাবেক প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন বলেন: ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যাগিং এবং মাদক এক ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ লক্ষ্য করেছি র্যাগিং দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা যখন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম তখন র্যাগিং নামক শব্দটি এ ক্যাম্পাসে ছিল না। শিক্ষকতা জীবনের গত ৮-১০ বছর র্যাগিং ভয়াবহ রুপ ধারণ করেছে। আমা আশা করেছিলাম প্রশাসন র্যাগিং ও মাদক বিরোধী পদক্ষেপ গ্রহণে দলমত নির্বিশেষে সকলকে সাথে নিয়ে পরামর্শে বসবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য আজ পর্যন্ত এই ধরণের কোন উদ্যোগ প্রশাসন থেকে নেওয়া হয়নি।’
সাবেক এ প্রো-উপাচার্য র্যাগিং বন্ধে প্রশাসন কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন: ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে গণরুমের যে চর্চা রয়েছে অচিরেই তা বন্ধ করা উচিৎ। একটি রুমে ২০-৩০ জন শিক্ষার্থী থাকবে এগুলো অসহনীয় এবং অপরিকল্পনীয়। যতদিন পর্যন্ত এই গণরুম বন্ধ করতে না পারবো, ততদিন পর্যন্ত মাদক ও র্যাগিংয়ের চর্চা আরও বেড়ে যাবে। আর সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি, ফলে র্যাগিং আজ পর্যন্ত বন্ধ হয়নি। আশা করবো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাদক ও র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ বলেন: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি উদ্যোগী না হয় তাহলে কোনভাবেই মাদক ও র্যাগিং বিরোধী কোন কার্যক্রম সফল হবে না। সেজন্য আমরা আশা করবো প্রশাসন সে ব্যাপারে প্রশাসন এই ব্যাপারে সোচ্চার হবে এবং কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
মানবন্ধনে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ, অধ্যাপক ড. লায়েক সাজ্জাদ এন্দেল্লাহ, অধ্যাপক অসিত বরণ পাল, অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদার, অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমগীর কবির ও অধ্যাপক শাহেদুর রশিদ প্রমুখ।








