জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হারুণ অর রশীদ খানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট এ কমিটি গঠন করা হয়।
অপরদিকে তিন সদস্যে এ তদন্ত কমিটি প্রত্যাখ্যান করে আগামীকাল প্রশাসনিক ভবন অবরোধের ঘোষণা দিয়েছে সাবেক উপাচার্য শরীফ এনামুল কবীররের অনুসারী আন্দোলনকারী শিক্ষকরা।
‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ’-এর ব্যানারে আগামীকাল সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখা হবে জানান মুখপাত্র অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ।

মঙ্গলবার বিকালে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি নিশ্চিত করে উপাচার্য ফারজানা ইসলাম বলেন, শিক্ষকদের দুইপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের চিহ্নিত করতে তিন সদস্যদের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হারুণ অর রশীদ খান। অপর দুই সদস্য হলেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ও ডেপুটি রেজিস্টার মোহাম্মদ আলী।
এদিকে আগামীকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধের ঘোষণার বিষয়টি জানিয়ে প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের মুখপাত্র অধ্যাপক ফরিদ আহমেদ বলেন, তিন সদস্য বিশিষ্ট যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তা নিরপেক্ষ হয়নি । তাই আমরা এই্ তদন্ত কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করছি।’

একই সঙ্গে বুধবার (১৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে আটটা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করে রাখা হবে। পরে কালো ব্যাচ ধারণ করে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। তবে ক্লাস-পরীক্ষা এর আওতামুক্ত থাকবে বলে তিনি জানান।
এর আগে উপাচার্য ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় অ্যাক্ট-১৯৭৩, স্ট্যাটিউট ও সিন্ডিকেট পরিচালনা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আহুত ধর্মঘটের অংশ হিসেবে ভোর চারটার দিকে সাবেক উপাচার্য শরীফ এনামুল কবীরের অনুসারী ৫জন শিক্ষক পরিবহন ডিপোর সামনে অবস্থান নিয়ে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
সাড়ে ৪টার দিকে ফারজানা ইসলামের অনুসারী শিক্ষকরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানালে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন দুই পক্ষের শিক্ষকরা। এসময় উভয়পক্ষের শিক্ষকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।








