চলতি জাতীয় ক্রিকেট লিগে চতুর্থ রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনেও দাপট দেখিয়েছেন বোলাররা। আগেরদিন একাই আট উইকেট নিয়েছিলেন নাঈম হাসান, পাঁচ উইকেট ছিল সোহাগ গাজীর। মঙ্গলবার রংপুরের হয়ে ৫ উইকেট নিয়েছেন শুভাশিষ রায়।
বোলারদের দাপট ছিল অন্য ম্যাচগুলোতেও। এমন দিনে সেঞ্চুরির মুখ দেখতে পারেননি কোনো ব্যাটসম্যানই। যেখানে এবারের লিগের প্রথম তিন রাউন্ডে একের পর এক সেঞ্চুরি তুলেছেন ব্যাটসম্যানরা।
ঢাকা বিভাগ-চট্টগ্রাম
কক্সবাজারে টায়ার-২ এর ম্যাচে আগেরদিন ঢাকাকে ২৮৮ রানে অলআউট করে দেয়ার পর স্বস্তিতে নেই চট্টগ্রাম। দিনশেষে তাদের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৮৮ রান। দলের মাত্র একজন ব্যাটসম্যান হাফসেঞ্চুরি করতে পেরেছেন। অধিনায়ক ইয়াসির আলী করেছেন সর্বোচ্চ ৬০ রান। এছাড়া মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন ৪৬ ও ইফতেখার সাজ্জাদ ৪০ রান করেন।
চিটাগাংয়ের ৮ উইকেট ভাগাভাগি করেছেন ঢাকার ৬ জন বোলার। মোশাররফ হোসেন ২ উইকেট ছাড়া বাকিরা একটি করে উইকেট নেন।
খুলনা-রাজশাহী
নিজেদের মাঠে আগেরদিন ৭ উইকেটে ২৮১ রান করা খুলনা এদিন অলআউট হয়েছে ৩০৯ রানে। ইনিংসে ফিফটি হয়েছে তিনটি। কিন্তু এনামুল হকের ৫১ ও তুষার ইমরানের ৭১ ছাপিয়ে শিরোনামে ছিল সৌম্যের ৬৬। ৩৭ রানে অপরাজিত থাকা অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমান এদিন আউট হন ৪৩ রানে।
রাজশাহীর হয়ে তিনজন নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। শফিউল ইসলাম, ফরহাদ রেজা ও সানজামুল ইসলামের ৩ উইকেটের সঙ্গে বাকি উইকেটটি নেন মুক্তার আলী।
খুলনার ইনিংসের জবাব দিতে নেমে দিনশেষে ৫ উইকেটে ২০২ রান করেছে রাজশাহী। সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেছেন ফরহাদ হোসেন। এছাড়া জুনায়েদ সিদ্দিকী ৪৭ ও মিজানুর রহমান ৪৩ রান করেন। ১৬ রানে অপরাজিত থাকা সাব্বির রহমানের সঙ্গী হিসাবের খাতা না খোলা মুক্তার আলী।
খুলনার হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন আল-আমিন হোসেন ও সৌম্য সরকার।
সিলেট-ঢাকা মেট্টো
এক উইকেট হাতে রেখে ২৯২ রানে দিনশেষ করেছিল সিলেট। তারা অলআউট হয়েছে ৩১২ রানে। সর্বোচ্চ ৬০ রান ওপেনার শাহনাজ আহমেদের। হাফসেঞ্চুরি পেয়েছেন জাকির হাসান (৫০) ও শাহানুর রহমান (৫৪)।
মেট্টোর হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ আশরাফুল, কাজী অনীক, আসিফ হাসান ও আরাফাত সানি।
সিলেটের ইনিংসের জবাবে ৮ উইকেটে ২৬৭ রানে দিনশেষ করেছে ঢাকা মেট্টো। দুই উইকেট হাতে রেখে এখনও ৪৫ রানে পিছিয়ে তারা। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ রান করেছেন অধিনায়ক মার্শাল আইয়ুব। শামসুর রহমান করেছেন ৬৩ রান। ৩৯ রানে অপরাজিত জাবিব হোসাইন।
সিলেটের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন খালেদ আহমেদ। এছাড়া শামসুর রহমান ২টি ও এনামুল হক জুনিয়র একটি উইকেট নেন।
রংপুর-বরিশাল
কাকতালীয় হলেও রংপুর-বরিশাল মাচে ঘটেছে মজার ঘটনা। প্রথম ইনিংসে সোহাগ গাজীর তোপে ঘরের মাঠে মাত্র ১৪৭ রানে অলআউট হয়েছে রংপুর। জবাবে কাটায় কাটায় ঠিক ১৪৭ রানেই অলআউট হয় বরিশালও। দলীয় সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন রাফসান আল মাহমুদ।
৫ উইকেট নিয়ে একাই রংপুরকে ধসিয়েছেন শুভাশিষ রয়। রবিউল হক ও তানভীর হায়দার নেন দুটি করে উইকেট।
তবে দ্বিতীয় ইনিংসেও স্বস্তিতে নেই রংপুর। ৭৭ রানে তিন উইকেট হারিয়েছে তারা। ৩০ রান করে আউট হয়েছেন রাকিন আহমেদ। ২৭ রানে অপরাজিত মাহমুদুল হাসান। ৬ রানে তার সঙ্গী সোহরাওয়ার্দী শুভ।








