‘জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)’র আত্মপ্রকাশে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং তাদের নেতারা। তারা বলছেন: গণতন্ত্র চর্চায় নতুন দল- ফোরাম আসবে। তারা তাদের বক্তব্য নিয়ে জনগণের কাছে যাবে। দিনশেষ বিচার করবে জনগণ, কোন দলের বক্তব্য তারা গ্রহণ করবে। তবে ছাত্ররা একটি দল গঠন করেছে আমরা তাদের গণতান্ত্রিক এ যাত্রায় শুভেচ্ছা জানাই- অভিনন্দন জানাই।
শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’ (এনসিপি)। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র নেতা নাহিদ ইসলাম। আর সদস্যসচিব করা হয়েছে আখতার হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন পদে ১৭১ জনের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
ছাত্রদের নতুন এ রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘিরে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন: একটি নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করেছে। আমি সাবেক ছাত্র নেতা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি; ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে গৌরব বোধ করছি। ছাত্ররা জাতীয়ভাবে তাদের একটি ফোরাম তৈরি করেছে। আমি তাদের সাফল্য কমনা করি। তারা গতানুগতিক বাইরে যেয়ে আন্দোলন করেছে, তাদের রাজনৈতিক ভাষাগুলোও আমরা দেখেছি ব্যতিক্রমধর্মী। আমি আমার রাজনৈতিক দল বিএনপি’র মুখপাত্র হিসেবে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন: তাদের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে ১৯ জুলাই আমি গ্রেফতার হই। এরপর একদিন যায় দু’দিন আমরা কারাগারে বসে অপেক্ষা করছিলাম কখন এক দফার ঘোষণা আসবে। কিছুদিন পর একদফার ঘোষণা এলো, আমরা আশা ফিরে পেলাম-দেশনেত্রী খালেদা জিয়া, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১৬ বছর ধরে আমরা যে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছি তার পূর্ণতার সময় এসে গেছে। এরপর ৫ আগস্ট কী ঘটলো, সেটাতো আপনরা সবাই দেখেছেন।
গণতন্ত্র চর্চায় জাতীয় নাগরিক পার্টিকে অভিনন্দন জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন: গণতন্ত্রের প্রধান অন্তরায় ছিলো শেখ হাসিনা। এখন নতুন সূর্য উঠেছে। গণতান্ত্রিক চর্চায় নতুন নতুন দল আসবে, ফোরাম আসবে। তারা তাদের বক্তব্য নিয়ে জনগণের কাছে যাবে। দিনশেষ বিচার করবে জনগণ, কোন দলের বক্তব্য তারা গ্রহণ করবে। ছাত্ররা নতুন দল করেছে, আমি সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে আমার দলের পক্ষ থেকে তাদের শুভেচ্ছা জানাই-অভিনন্দন জানাই।
ইসলামী ঐক্য জোটের মহাসচিব সাখাওয়াত হোসেন রাজি বলেছেন: নতুন রাজনৈতিক দলকে আমরা স্বাগত জানাই। তারা আমাদের প্রতিপক্ষ নয়, সহযোদ্ধা। আমাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকবে জনগণের সবথেকে ভালো সেবা কে দিতে পারে। যারা ভালো সেবা দিতে পারবে তারাই এগিয়ে যাবে, জনপ্রতিনিধি হবে এবং দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবে।
খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান হামিদী তার প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন: যেহেতু তারা জুলাই আগষ্টের অভ্যুথ্যানের মধ্য দিয়ে নতুন দেশ গঠনের স্বপ্ন দেখেছে, দেশকে নতুন করে স্বাধীন করেছে। এখন তারা একটি রাজনৈতিক দল গঠন করছে। আমি বিশ্বাস রাখতে চাই এই নেতৃত্বের ওপর, এই দলের ওপর।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন: এমন একটা সময় তারা দল গঠন করছেন যখন জাতির সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। জাতীয় জীবনে আমরা এখন ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি। রাষ্ট্র ব্যবস্থার পুন:গঠন ও সংবিধান সংস্কারের মধ্য দিয়ে নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন: বিগত ৫৩ বছরে তরুণদের কাঙ্খিত বাংলাদেশ গঠন সম্ভব হয়নি। আমরা আশা করবো তাদের এই দলের মাধ্যমে দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও সাম্যের বাংলাদেশ তৈরি করতে সক্ষম হবে।
অন্তরবর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দলের কাছে নিজের প্রত্যাশা তুলে ধরে বলেছেন: ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টিকে (এনসিপি) অভিনন্দন। নতুন রাজনৈতিক দল এই অঞ্চলের দুর্ভাগা জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এই প্রত্যাশা থাকবে।
এর আগে শুক্রবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ করে নতুন এই রাজনৈতিক দল। ঘোষণা করা হয় আংশিক কমিটি।








