শীতের শেষে মরা গাছে নতুন পাতার মাধ্যমে বসন্ত যেভাবে নিয়ে আসে নতুন জীবন, ১৯৭১ সালের এমনই এক বসন্তে পাকিস্তানি বর্বর সেনা কর্তৃক নারকীয় হামলার পর পাকিস্তান নামের বন্দিদশা থেকে শৃঙ্খল মুক্তি পেয়ে নতুন জীবন ও দেশের জন্য বাঙালি শুরু করেছিলো চূড়ান্ত লড়াই। ইতিহাসের পরিক্রমায় বসন্তের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ ২৬ মার্চ বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। এ দিনের মাধ্যমেই শুরু হয়েছিলো বিশ্বের বুকে লাল-সবুজের পতাকা ওড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। ১৯৭১ সালের এদিনে ঘোষিত হয়েছিলো বাঙালির বহুল আকাঙ্খিত স্বপ্নের স্বাধীনতা। আজ থেকে প্রায় ৪ যুগ আগের এমনি এক ভোররাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। এরপর বঙ্গবন্ধুর ডাকে জীবনপণ সশস্ত্র লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে বীর বাঙালি। ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ঘোরতর ওই অমানিশা ভেদ করে দেশের আকাশে উদিত হয় স্বাধীনতার চিরভাস্বর সূর্য। এবারের স্বাধীনতা দিবস অন্যান্য অনেক বছরের চেয়ে আলাদা। কেননা এরইমধ্যে একাত্তরের সেই যুদ্ধাপরাধীদের অনেকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় ভারমুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এখন সেই পাকিস্তানী হায়েনা ও যুদ্ধাপরাধীদের উত্তরসূরীরা এদেশে জঙ্গিবাদের এক ভয়াবহ খেলায় মেতে উঠেছে। তারা তাদের পূর্বসূরি হায়েনাদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে চোরাগোপ্তা পদ্ধতিতে প্রগতিশীল ব্লগার, লেখক, প্রকাশকসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষকে হত্যার উল্লাসে মেতে উঠেছে। গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলাসহ ক্রমাগতভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যর্থ এবং সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করার ঘৃণ্য অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তবে তাদের শক্ত হাতে দমনে সরকারের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। আমরা দেখেছি, জঙ্গিদের গডফাদার মুফতি হান্নানসহ আরো কয়েক জঙ্গি এখন ফাঁসির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনছে। জঙ্গিদের এই গডফাদারকে পুলিশের প্রিজনভ্যান থেকে ছিনিয়ে নিতেও তারা চেষ্টা করেছিলো। আজ জঙ্গিদের এক ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা গুঁড়িয়ে দিয়ে সিলেটের শিববাড়ী এলাকার একটি বাড়ীতে সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে। স্বাধীনতা বিরোধী ধর্মান্ধ জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধকে আমরা স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ বলেই মনে করি। এ যুদ্ধের প্রতিটি যোদ্ধাকে আমরা সম্মান করি, তাদের সাফল্য কামনা করি। এ যুদ্ধজয়ের সঙ্গে প্রগতিশীল ও আধুনিক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে, যে বাংলাদেশ ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদকে সশ্রদ্ধ সালাম জানাই, দেশবাসীকে জানাই শুভেচ্ছা।








