ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিয়েছেন ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের ৬০ ফিট সড়কে অবস্থিত মনিপুর বয়েজ হাইস্কুল কেন্দ্রে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ভোটকেন্দ্রে এ সময় দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
ভোট দেওয়ার পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে আমি জেলেই ছিলাম। তিনটি ভোট হারানোর পর আজ আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ আমাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দিয়েছেন। এই ভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হোক- এই দোয়া করি।”
তিনি বলেন, শুধু তিনি নন, দেশের বহু তরুণ যারা জীবনে একটি ভোটও দিতে পারেননি, তারাও এ দিনের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। “এই ভোট শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু, সংঘাতমুক্ত ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হোক। এই ভোটের মাধ্যমে এমন সরকার গঠিত হোক, যা কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা দলের নয়- ১৮ কোটি মানুষের সরকার,” যোগ করেন তিনি।
নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, “ছোট খাটো বিষয় আমরা ক্ষমা করবো, বড় কোনো বিষয় হলে আমরা ছাড় দেবো না। আমাদের যা করা প্রয়োজন, আমরা তাই করবো।”
তিনি আরও বলেন, “আজকে ভোট দিয়ে শুরু করলাম। অন্যান্য কেন্দ্রেও যাবো, পরিস্থিতি দেখবো।” সবার সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, দেশ গড়তে হলে সবাইকে হাতে হাত মিলিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।
গণমাধ্যমকে সমাজের ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, “দেশ গড়ার কাজে আমরা গণমাধ্যমকে পাশে চাই। মানুষের ভোটাধিকার হারিয়ে যাক, সেটা আমরা কখনোই চাই না। ভোট যখন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে, সেটা আমরাও মানব, আপনাদেরও মানতে হবে- এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।”
তিনি আরও বলেন, “কেউ যদি অপরাধ করে থাকে- সেটা আমি হলেও- আমি অপরাধের বিপক্ষে। কিন্তু অপরাধ নয়, সেটাকে জোর করে অপরাধ বানানো আরেকটি বড় অপরাধ।”
উল্লেখ্য, ডা. শফিকুর রহমান ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।


