স্বস্তি নিয়ে ব্যাটিং করতে পারছেন না, বোলিংয়েও দেখা যাচ্ছে অস্বস্তিতে ভুগতে। দেশসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের সমস্যাটা কি তাহলে প্রকট—তা অবশ্য মনে করেন না বিসিবির প্রধান চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি জানান, ‘সাকিব চেন্নাইয়ে গিয়ে স্বনামখ্যাত একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছেন। যতটা জানতে পেরেছি আগের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছেন।’
সাকিবকে দেখে অবশ্য উন্নতির লেশ দেখা যাচ্ছে না। মাথার পজিশন ঠিক রাখতে হেলমেটের স্ট্র্যাপ কামড়ে ব্যাটিং করতে হচ্ছে বাঁহাতি অলরাউন্ডারকে। চোখের দৃষ্টি বলের দিকে রাখতে সংগ্রাম করতে দেখা যাচ্ছে তাকে।
চোখের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সাকিব কম চেষ্টা করেননি। চোখে চশমা পরেও নেটে ব্যাটিং করেছেন। তাতে অবশ্য সমাধান মেলেনি।
ভারতে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সময় চোখে ঝাপসা দেখার সমস্যাটা প্রথম ধরা পড়লে চেন্নাইয়েই চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছিলেন সাকিব। ঢাকায় এসে আবার চিকিৎসক দেখান। বিপিএলের আগে চিকিৎসক দেখাতে লন্ডন ছুটে যান।
জানা গেছে যুক্তরাষ্ট্রেও ডাক্তার দেখিয়েছিলেন। বিপিএলের মাঝপথে যান সিঙ্গাপুর। তার আগে রংপুর রাইডার্সের হয়ে একাধিক ম্যাচে খেলা হয়নি তার। কয়েকটি ম্যাচ ‘শুধু বোলার’ হিসেবে লড়েন। ব্যাট করেন টেলএন্ডার হিসেবে।
এবার টেস্ট খেলতে চেন্নাইয়ে এসে শুরুতেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন সাকিব। ব্যাটার সাকিবকে আগের ভূমিকায় পাওয়া যাচ্ছে না। পাকিস্তান সিরিজে ভালো কোনো ইনিংস নেই তার। কাউন্টিতে গিয়েও রানের দেখা পাননি। চেন্নাই টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩২ রান করলেও চোখের সমস্যায় প্রভাব দেখা গেছে ব্যাটিংয়ে। আউট হন রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে।
ব্যাটিংয়ের পর এবার বোলিংয়েও ভুগতে দেখা যাচ্ছে সাকিবকে। ভারতের বিপক্ষে দুই ইনিংসেই উইকেটহীন এ বাঁহাতি স্পিনার। রান বিলিয়েছেন অকাতরে। প্রথম ইনিংসে বোলিংয়ে এসেছেন ৫৩তম ওভারে। দ্বিতীয় ইনিংসে দশম ওভারে এলেও সাকিবকে নিষ্প্রভ মনে হচ্ছিল শুরু থেকেই। সোজা সোজা বল ছেড়েছেন। ফ্লাইট দিতে দেখা যায়নি একদমই।
প্রথম ইনিংসে ৮ ওভারে ৫০ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩ ওভারে ৭৯ রান খরচ করেন সাকিব। বিনিময়ে পাননি কোনো সাফল্য।
সাকিবের বোলিংয়ের হাল দেখে তাকে চোটাক্রান্ত মনে করছেন ম্যাচের ধারাভাষ্যকার ও ভারতের সাবেক স্পিনার মুরালি কার্তিক। তিনি বলেছেন সাকিবের স্পিনিং ফিঙ্গার ফুলে গেছে। সম্ভবত সার্জারি হয়েছে।
বিসিবি চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরীও ‘সাকিবের আঙুলে অস্ত্রোপচার’ কথাটা শুনে অবাকই হলেন। ক্রিকেটারদের যেকোনো চিকিৎসার ব্যাপারেই আপডেটেড থাকা দেবাশীষ চৌধুরী জানান, ‘সাকিবের আঙুলে ফ্র্যাকচার হয়েছিল বিশ্বকাপে দিল্লিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে। ভাঙলে পুরোপুরি নিরাময় হওয়া কঠিন। কিছু অস্বাভাবিকতা থাকতেই পারে। সেখানে তো আঙুল নিয়ে তার কোনো অভিযোগ শুনিনি। এরপর সার্জারি হলে তো আমরা জানতাম। তার সর্বশেষ সার্জারি হয়েছিল সেই এশিয়া কাপের সময়। তারপর সে কোনো সমস্যা ছাড়া অসংখ্য ম্যাচ খেলেছে।’








