আগেই সিদ্ধান্ত ছিল ১২ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পর্যায়ক্রমে খুলে দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীরা সশরীরে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে পাঠগ্রহণ করতে পারবে। বাকি ছিল শুধু সেই সিদ্ধান্তকে কিভাবে কার্যকর করা হবে; সেই গাইডলাইন ঠিক করার কাজ। আজকে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তা নিয়ে সবিস্তারে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও এসেছে।
ওই বৈঠকের পর শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, শুরুতে ২০২১ সালে যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেবে; তাদেরকে প্রতিদিন স্কুলে আসতে হবে। এছাড়াও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিনই ক্লাসে আসতে হবে। অন্যসব শিক্ষার্থীরা আপাতত সপ্তাহে একদিন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আসবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা চাইলে তাদের সুবিধাজনক সময়ে পাঠদান শুরু করতে পারবেন।
তার মানে, অনেক অনেক প্রত্যাশা নিয়ে দিনগুনতে থাকা দেশের কয়েক কোটি শিক্ষার্থীর অপেক্ষার পালা নিশ্চিতভাবেই শেষ হচ্ছে অবশেষে! আমরা জানি, গত বছরের সেই ১৭ মার্চ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অপ্রত্যাশিত ছুটিতে থাকা প্রতিটি শিক্ষার্থীই হাঁপিয়ে উঠেছে। শরীরিক ও মানসিকভাবে নানা সমস্যার মুখে পড়ে সেই সব শিক্ষার্থীরা আবার স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ফিরতে পারছে, সেটা কম আনন্দের নয়।
আর সেই আনন্দ কি শুধুই শিক্ষার্থীদের? না, শিক্ষক, অভিভাবক থেকে শুরু করে দপ্তরি-পিয়নের মুখেও হাসি ফুটেছে এই সংবাদে। যাদেরকে গত দেড়টা বছর অভাবনীয় সব পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। টিকে থাকার অপ্রত্যাশিত সংগ্রমে নেমে প্রতিনিয়ত মুখ লুকাতে হয়েছে। সেইসব মানুষগুলো বুক চিতিয়ে ফিরবে তাদের চেনা গণ্ডিতে, পরিচিত সুরে বাঁধবে নতুন দিনের গান।
করোনা মহামারি বিশ্বের বহু দেশকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া মতো কঠোর সিদ্ধান্ত বাধ্য করেছিল। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে বেশিরভাগ দেশই বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবার খুলে দিয়েছে। তবে ইউনিসেফের প্রতিবেদনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকা দীর্ঘতম দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ছিল দ্বিতীয় স্থান। ধারণা করা হচ্ছে, এই সময়ে অন্তত চার কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
টিকাকরণসহ করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে নানান পদক্ষেপে সংক্রমণ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু তা নিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলার সুযোগ নেই। এখন আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ শিক্ষার্থীরা যখন ঘরে ফিরবে, সেই সময়টায় কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। বিশেষ করে যাদের বাসা বা বাড়িতে বয়স্ক সদস্য রয়েছে।
আমরা মনে করি, শুধু সরকার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে না তাকিয়ে পরিবারের সদস্যদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। তা না হলে করোনার দাপটে আবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার শঙ্কা থেকেই যাবে।








