টাঙ্গাইলে চুরির অপবাদ সহ্য করতে না পেরে কাঠ ব্যবসায়ী সামসুল হককে পিটিয়ে হত্যা করেছে তার দোকানের সাবেক কর্মচারী ইয়াছিন মিয়া।
আজ রোববার দুপুরে এ ঘটনার আড়াই মাস পর হত্যাকারী ওই যুবককে গ্রেফতারের পর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের কথা জানান টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার।
গ্রেফতার হওয়া ওই যুবক উপজেলার গদুরগাতি গ্রামে বুদ্ধু মিয়ার ছেলে ইয়াছিন মিয়া (১৯)। তিনি সামসুল হকের দোকানের কর্মচারী ছিলেন।
জেলা পুলিশের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, গত ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইল শহরের সন্তোষ বাগবাড়ি যক্ষ্মা হাসপাতালের সামনের পুকুর থেকে সামছুল হক নামের এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন তার ভাই শামিম আল মামুন বাদি হয়ে টাঙ্গাইল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামী করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি টাঙ্গাইল থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথভাবে তদন্ত করে।
পরে সামছুলের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে ইয়াছিন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করে।
পুলিশ সুপার আরো জানান, ইয়াছিন মিয়া ৬ মাস আগে সামছুল হকের কাঠের দোকানে মাসিক ১৫শ’ টাকা বেতনে কাজ করতেন। তাকে বিভিন্ন সময় চুরির অপবাদ দেয়া হতো। সর্বশেষ ৭ মাস আগে সামছুল হকের দোকান থেকে কুড়াল হারিয়ে যায়। তার অপবাদও ইয়াছিনকে দেয়া হয়। পরে তার বাবাকে ডেকে এনে ইয়াছিনকে মারধরের পর দোকান থেকে বের করে দেয়া হয়। সেই অপমান সহ্য করতে পারেনি ইয়াছিন।
ঘটনার দিন রাতে সামছুল হক মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাড়ি ফিরছিলেন। ওই সময় ইয়াছিন লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। সামছুল মাটিতে পরে যাওয়ার পর ইয়াছিন চলে যায়। কিছুক্ষন পর আবার এসে দেখতে পায় সামছুল সেখানেই জীবিত অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে পুনরায় তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে সামছুলের মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যায়।
কিছুদিন আগে সামছুলের ফোনে অন্য সিম ব্যবহার করে কথা বলে ইয়াছিন। সেই সূত্র ধরেই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ইয়াছিনকে গ্রেফতার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যা কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে টাঙ্গাইল আদালতে প্রেরণ করা হয় বলে জানান পুলিশ সুপার।








