পচা ও বাসী সবজি দিয়ে ইফতার সামগ্রী তৈরীর দায়ে রাজধানীর পুরান ঢাকার চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ক্যান্ডেল লাইটকে ৩ লাখ টাকা এবং মেয়াদবিহীন খাদ্যসামগ্রী প্রস্তুতির দায়ে বনফুল এন্ড কোং কে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার সারাদিন রাজধানীর পুরান ঢাকার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে অভিযান চালায় তারা।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়েই বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে দেয় ক্যান্ডেল লাইট চাইনিজ রেস্টুরেন্টের কর্মচারীরা। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বাইরে থেকে আলোকসজ্জা ও চাকচিক্য দেখা গেলেও রেস্টুরেন্টের ভেতরে গিয়ে দেখা যায় এক ভিন্ন পরিবেশ। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। দীর্ঘদিনের পচা বাঁধাকপি। দুর্গন্ধে নাকে নেয়া দায়।বাজার থেকে সবচেয়ে নিম্ন মানের পচা সবজী সংগ্রহে রাখা হয়েছে। পচা বেগুন, গাজর, শসা।
ফ্রিজের ভেতর দেখা যায় দীর্ঘদিনের পচা বাসী গরু ও মুরগীর মাংস। কয়েক দিনের ব্যবহৃত তেল বারবার ব্যবহারের ফলে ধারণ করেছে কুচকুচে কালো মবিলের মত রং। আর এসব কিছু দিয়েই তৈরি হচ্ছে ইফতার সামগ্রী। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার লেশমাত্র নেই কোথাও। তাদের এই অপকর্ম ঢাকতেই মোবাইল কোর্ট আগমনের খবরে ভেতর থেকে তালা মেরে রাখা হয়। তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করায় সেসময় বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে দেখা যায় রেস্টুরেন্টে খেতে আসা গ্রাহকদের।
সেখানে আসা চার বন্ধুর মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রনি চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, তাদের খাবার হিসেবে পরিবেশন করা খিচুড়ি আর মাংস ছিল একেবারেই বাসী পচা। যার কারণে তারা খাবার ফেরৎ দেন। এরই মাঝে আসে মোবাইল কোর্ট। মোবাইল কোর্টের এই তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
তবে রেস্টুরেন্টের এই ভয়াবহ অবস্থা দেখে শঙ্কা প্রকাশ করেন সেখানে আসা বুয়েটের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল। জানান রেস্টুরেন্টটি তাদের ক্যাম্পাসের কাছে হওয়ায় নিয়মিত এখানে খেতে আসেন তারা। তবে পরবর্তীেতে কোথাও খেতে যাবার আগে কয়েকবার ভেবে দেখতে হবে বলে জানান এই শিক্ষার্থী।
এছাড়াও চানখারপুলের বনফুল এন্ড কোং প্রতিষ্ঠানটিতে খাবারের প্যাকেটের গায়ে মেয়াদ ও প্রস্তুতির তারিখবিহীন বেকারী খাদ্যদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। পুরানো বাসী জিলাপি বিক্রির জন্য দেখা যায় প্রদর্শনীতে। সেখান থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ভেজালবিরোধী এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ঢাকা জেলা প্রশাসন, এপিবিএন-৫, ও বিএসটিআই। অভিযানে উঠে আসে এ অনিয়ম ও প্রতারণার চিত্র।
ঢাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদ এলাহী জানান, ‘এটি তাদের রুটিন ওয়ার্ক। পুরো রমজান মাসব্যাপী তাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
জনগণের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাবরের নিশ্চয়তা প্রদানের লক্ষ্যে সমগ্র ঢাকা শহরে প্রতিদিন এ অভিযান চলবে। নিরাপদ খাদ্যসেবা দেয়াই তাদের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে এই কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘ভেজাল ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিষয়ে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। কোথায় যাচ্ছি? কি খাচ্ছি? সন্তানদেরকে কি খাওয়াচ্ছি? এ বিষয়গুলো নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ সচেতন হবে তখনই আর অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রতারণার সুযোগ পাবেনা।’
এর আগে ভ্রাম্যমান আদালত আরো ছয়টি হোটেল ও খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালালেও প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচ্ছন্নতা ও প্রস্তুতকৃত খাদ্যসামগ্রীর মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে। এসময় তারা প্রতিষ্ঠানগলোকে ধন্যবাদ প্রদান করে এবং অধিকতর মান উন্নয়নের জন্য পরামর্শ দেয়।
৫-এপিবিএন এর সিনিয়র এএসপি সাইদুর রহমান রুবেল বলেন, ‘দীর্ঘদিন যাবৎ নজরদারির পর প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। নিয়মিত অভিযানের কারণে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের মান আগের তুলনায় বেশ ভাল। যাদের সমস্যা পাওয়া যাচ্ছে তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।’








