উইকেটে হালকা ঘাসের আস্তরণ। সুবিধাটা পুরোপুরিই নিলেন আবু জায়েদ রাহী। নতুন বল হাতে তুলে হানলেন জোড়া আঘাত। নিজের দ্বিতীয় ওভারে আবাহনীর দুই উইকেট নিয়ে শেখ জামালের ২৫৬ রানের মাঝারি পুঁজিই করে তুললেন জয়ের জন্য যথেষ্ট। তাতে জামালদের কাছে সুপার লিগের দ্বিতীয় ম্যাচে আবাহনী হেরেছে ২৬ রানে।
ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে মিরাজ-মোসাদ্দেক-তাসকিনদের শেষের লড়াই কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। ৪৭.২ ওভারে ২৩০ রানে অলআউট হয়েছে আবাহনী।
জিতলেই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের খুব কাছে চলে যেত আবাহনী। শেখ জামালের কাছে হেরে যাওয়ায় পয়েন্ট টেবিল হয়ে উঠল আরও জমজমাট। আবাহনীর ১৮ পয়েন্ট। শেখ জামাল ও প্রাইম দোলেশ্বরের পয়েন্ট সমান ১৬ করে।
ওপেনিংয়ে নামা মাশরাফীকে বোল্ড করে প্রথম সাফল্য পান রাহী। ৮ বল খেলে ৭ রান করেন ম্যাশ। তাতে ছিল একটি চারের মার। তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্তকে রানের খাতা খুলতে দেননি রাহী। ওই ওভারেই এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন শান্ত।
পরে দারুণ খেলতে থাকা এনামুল হক বিজয়কে বোল্ড করে আবাহনীর তৃতীয় শিকার ধরেন নাজমুল ইসলাম অপু। পাঁচটি চার ও একটি ছক্কায় ৩২ বলে বিজয় করেন ৩৪ রান।
দলীয় ফিফটি পার হতেই রাহীর তৃতীয় শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ মিঠুন (৫)। খাদের কিনারা থেকে দলকে উদ্ধারের দায়িত্ব নেন আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি পাওয়া হানুমা বিহারি ও অধিনায়ক নাসির হোসেন। ২৩ রান করে বিহারি রবিউল হকের বলে বোল্ড হলে ভাঙে ৩৫ রানের জুটি। দলীয় রান তিন অঙ্ক ছোঁয়ার আগেই পাঁচ উইকেটের পতন ঘটলে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে আকাশী-নীলরা।
বেশিক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি নাসিরও। জিয়াউর রহমানের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন নামের পাশে ২৮ লিখিয়ে। শেষদিকে মোসাদ্দেক (২৭), মিরাজ (৩৫), সানজামুল (২৭) ও তাসকিনের (৩১) লড়াইয়ে হারের ব্যবধান কমায় আবাহনী।
তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন আবু জায়েদ রাহী ও রবিউল হক। নাজমুল ইসলাম অপু, ইলিয়াস সানি, জিয়াউর রহমান ও সোহাগ গাজী নিয়েছেন একটি করে উইকেট।
সকালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত সূচনা পায় শেখ জামাল। সৈকত আলী ও উন্মুক্ত চাঁদ গড়েন ৯০ রানের ওপেনিং জুটি। আগের ম্যাচে ১২৭ রানের ইনিংস খেলা উন্মুক্ত চাঁদ করেন ১০১ রান। সৈকতের ব্যাটে আসে ৫৬। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩১ রান আসে তানবীর হায়দারের ব্যাটে।
বল হাতে মাশরাফী নিয়েছেন ৩ উইকেট। ১০ ওভারে ৪৬ রান দেন এই ডানহাতি পেসার। ৫ ওভারের প্রথম স্পেলে উইকেটে না পেলেও, দ্বিতীয় স্পেলে এসেই সাফল্য; নেন উন্মুক্ত চাঁদের উইকেট। ১০১ রানের ইনিংস খেলা চাঁদকে সাজঘরে পাঠিয়ে শেখ জামালের ছন্দপতন ঘটান। ওই ওভারেই জিয়াউর রহমানকে ফিরিয়ে দিলে বেশিদূর যেতে পারেনি নুরুল হাসান সোহানের দল। ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে জামালরা তোলে ২৫৬ রান।








