‘যখনই ঋত্বিক ঘটকের সঙ্গে আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে তখনই আমি দেখলাম এতো আনকম্প্রোমাইজিং শিল্পী, কখনো কাজ থাকবে, কখনো কাজ থাকবে না। কখনো ছবি চলবে, কখনো ছবি চলবে না। সুতরাং আমি নিজের পায়ে দাঁড়াবো।’
একটি সাক্ষাৎকারে ক্ষ্যাপাটে স্বামীর অবস্থান তুলে ধরে নিজের মানসিকতা জানান দেয়া লেখক ও সংগঠক সুরমা ঘটক বলছিলেন কথাগুলো। হ্যাঁ, তিনি কিংবদন্তি নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের স্ত্রী সুরমা ঘটক। যিনি একাই সংগঠন চালানোর পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন তিন ছেলে-মেয়ের এক সংসার। অথচ সেই তিনিও আজ নেই!
হ্যাঁ। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন প্রখ্যাত নির্মাতা ঋত্বিক ঘটকের সহধর্মিনী সুরমা ঘটক। ভর্তি ছিলেন পশ্চিম বঙ্গের এম আর বাঙ্গুল হাসপতালে। অবশেষে সোমবার দিবাগত রাত সোয়া বারোটার দিকে মৃত্যু বরণ করলেন তিনি। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। মঙ্গলবার সকালে টুইট করে সহমর্মিতা জানান তিনি।
মঙ্গলবার সকালে সুরমা ঘটকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় চেতলার সরকারি আবাদনে। এরপর কেওড়াতলা মহাশশ্মানে শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।
সংসারের প্রতি কোনো দায়বোধ ছিলো না ঋত্বিকের। সেসময় তার নির্মিত ছবিও চলতো না। তিন ছেলে মেয়ে নিয়ে অকুল পাথারে সুরমা ঘটক একদিন ঋত্বিককে ছেড়ে চলে গেলেন শিলংয়ে নিজের বাপের বাড়িতে। সেখানেই থাকতেন তিনি। ঋতবান, সংহিতা এবং শুচিশ্মিতা নামে তিন সন্তান ছিলো তাদের। ঋত্বিক মারা যান ১৯৭৬ সালে। তাদের সন্তান শুচিশ্মিতার মৃত্যু হয়েছে ২০০৯ সালে। সংহিতা মারা যান বছর খানেক আগে। ছেলে ঋতবানও বহুদিন ধরে মানসিক রোগে আক্রান্ত। আর এবার এবার চলে গেলেন সুরমা ঘটকও।
ছবি: ফটোজেনিক








