চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ ড. জাহেদ খানকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনি।
অধ্যক্ষ জাহেদকে চড়-থাপ্পড় মারার একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়: ‘‘পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে উন্নয়ন ফি’র নামে অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা আদায় করছে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান কলেজ। এমনকি টাকা না দিলে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র দেওয়া হচ্ছে না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৩১ মার্চ দুপুরে চকবাজারে বিজ্ঞান কলেজ ক্যাম্পাসে যান রনি। সেই সময় চকবাজার থানার একদল পুলিশও কলেজে অবস্থান করছিলো।
এসময় কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কলেজ অধ্যক্ষ জাহেদ খানের শার্টের কলার চেপে ধরে তার কক্ষে নিয়ে যান রনি। এরপর তার গালে থাপ্পড় মেরে তাকে চেয়ারে বসিয়ে দেন।’’
ছাত্রলীগ নেতার এমন কাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। ওই শিক্ষক অভিযোগ করেন, দাবিকৃত চাঁদা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রনি তার ওপর চড়াও হয়। এমন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে।
তবে রনির দাবি: জাহেদ খান মুঠোফোনে এসএমএস করে তাকে একা দেখা করতে যাওয়ার কথা বললেও তিনি যাননি, বরং সবার উপস্থিতিতে একজন ছাত্রনেতা হিসেবে শিক্ষার্থীদের বাড়তি টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি।
নূরুল আজিম রনির এমন দাবির পরও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠছে, একজন ছাত্রনেতা কি কোনো শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার অধিকার রাখেন?
এমন প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে রনির দাবি, ‘‘জামায়াতপন্থী ওই শিক্ষক গত বছরও ২শ’ ৬১ শিক্ষার্থীর সাথে প্রতারণা করে পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলে পালিয়ে গিয়েছিল। তারপর মোবাইলে এসএমএস করে পার্সোনাল দেখা করার কথা বলতো সে। ম্যানেজ মানি দেওয়ার চেষ্টা করতো। আমি পার্সোনাল দেখা না করে কলেজে শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে দেখা করাতে বিশ্বাসী ছিলাম।
এমনকি আমার এই ভূমিকার কারণে সে বেশ কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে আদায় করা বাড়তি টাকা ফেরত দিয়েছে। যাদের টাকা তখন ফেরত দিতে পারেনি, পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে মুচলেকা দিয়েছে। এটাই কি চাঁদাবাজি?’’
তারপরেও রাগের বশবর্তী হয়ে তাকে চড়-থাপ্পড়ের ঘটনায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক লিখিত বক্তব্যে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এই ছাত্রনেতা। বলেন, ‘উত্তেজনার বশে জাহেদ খানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া আচরণের জন্য আমি অনুতপ্ত।’
তিনি বলেন: ৩১ মার্চ নেতাকর্মীদের নিয়ে বিজ্ঞান কলেজে গেলে সেখানে থাকা অছাত্র ও সন্ত্রাসীরা পুলিশের সামনেই বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায়। একপর্যায়ে অধ্যক্ষ জাহেদ খানের কাছে সন্ত্রাসী জড়ো করার বিষয়ে জানতে চাওয়ার জেরে উত্তেজনার একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়, যার ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন: আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি সে দোষী সাব্যস্ত হয়, তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনি মূলত চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এবং আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী। আর সেখানকার বর্তমান মেয়র আ জ ম নাসিরের সঙ্গে জাহেদ খানের বেশ কিছু ছবি ইতোমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা গেছে।
এছাড়া মহিউদ্দিন চৌধুরী গ্রুপ বিরোধী সেখানকার আরেক মন্ত্রীর সঙ্গেও ‘জামায়াতপন্থী’ শিক্ষক জাহেদ খানের সখ্যতা রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত এক সময়ের চট্টগ্রামে নুরুল আজিম রনি এই দলটির কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক বলেই স্থানীয় সূত্র জানায়।
এর আগে, ২০১৬ সালের মে মাসে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভোট চলাকালে চারিয়া বোর্ড স্কুল কেন্দ্রের বাইরে থেকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হারুনুর রশিদ নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রনিকে আটক করে। পরে তাকে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।







