‘যা চাই তা পাই না। আর যা পাই তা চাই না’….আসলে চোখে জল এসে যাচ্ছে, তবে এই বয়সে কান্না মানায় না তাই ‘আবেগতাড়িত’ বলাই ভালো। অসময়ে আমেরিকায় ইমিগ্রেশন ভিসা পেয়ে সাময়িকভাবে দেশ ছেড়ে যাচ্ছি। তবে একেবারেই যেতে হবে নাকি ফিরে আসবো? কোনটা ভালো হবে? ফিরে আসা, নাকি চলে যাওয়া? জানি না। এই প্রথম ১০০% দ্বিধাগ্রস্ত।
এইসব ভাবতে ভাবতে মনটা ভীষণ ক্লান্ত। এয়ারপোর্টের পথে আমাদের গাড়ি ততক্ষণে বিজয় সরণী পেরিয়ে যাচ্ছে। তার আগে কারওয়ান বাজার অতিক্রম করার সময় পাশে বসা আমার সহধর্মিণী তার শ্বশুরের কাছ থেকে টেলিফোনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিদায় নিতে নিতে ফোনটা আমার হাতে দিয়ে বললো- ধরো আব্বার সাথে কথা বলো।
ফোনটা ধরেই বুঝলাম আব্বাও কাঁদছেন। আব্বার কান্না জড়িত কন্ঠের বেশিরভাগ কথাই পুরোপুরিভাবে বোঝা যাচ্ছিলো না। তবে যেটুকু বুঝেছি তার মূল সুর হচ্ছে- গ্রামের মানুষ যখন আমার কাছ থেকে চিকিৎসা নেয়ার পর, বাবার কাছে যেয়ে আমার সুনাম করে তখন বাবার বুকটা গর্বে ভরে ওঠে।
নিজের জন্য নয়, গর্বে বুকটা আর ভরবে না বলেই আব্বার এই কান্না। আমার পেছনে সারাজীবন ভালোবাসা, শ্রম দেয়া পিতার গর্বের বুকে হাহাকার জাগিয়ে রওনা দিয়েছি অজানার পথে।
যেতে যেতে ভাবছিলাম অনেককে ফোন দিবো, কাউকে দিয়েছি, কাউকে দেই নি। যাদেরকে ফোন করলে কান্না পাবে, তাদেরকে আর ফোন দেয়া হয় নি।
আশাকরি হৃদয়ের টানে তারাও মেনে নেবেন আমার এই অপারগতা। তারপরও সকলের জন্য শুভকামনা।
দেশকে ও দেশের মানুষকে যে এতো ভালোবাসি তা বিদায় বেলা খুব টের পাচ্ছি। ঢাকা ট্রিবিউন-এ কাজ করি বলে- আমি একটা স্টিকার পেয়েছিলাম গাড়িতে লাগানোর জন্য। স্টিকারটিতে লেখাছিলো- GLAD ‘to be BanGLADeshi.
দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথা ভেবে স্টিকারটি কখনোই গাড়িতে লাগানোর বিষয়ে উৎসাহবোধ করিনি। আজ মনে হচ্ছে, স্টিকারটি আমার গাড়ির পিছনের গ্লাসে লাগানো থাকলে খুব ভাল লাগতো।
দেশ ও দেশের মানুষ, পরিবার, আত্মীয়, বন্ধু-বান্ধবকে খুব মিস করবো। I luv u all…. (চলবে)







