বিদ্যুহীন এক গ্রামে আলো ছড়াচ্ছে মেয়েদের ফুটবল। কোনো দিন আধাপেটা, কখনো না খেয়ে প্রতিদিন মাইল পেরিয়ে খেলতে যাওয়া তাদের। গাজীপুরের কাপাসিয়ার শেষ সীমানা টোক এলাকার মেয়েদের হাতে বই, পায়ে পায়ে বল আর চোখে নতুন এক কলসিন্দুরের স্বপ্ন।
ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েদের সাফল্যের মধ্যেই আগামীর সম্ভাবনার খবর। সেখানে পৌঁছানোর সময় ভোরের আলো রেখায় নতুন দিনের রঙ। এ যেন আরেক কলসিন্দুর। গল্পতো একটাই, শুধু নামটা বদল, ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার কলসিন্দুরের জায়গায় গাজীপুরের কাপাসিয়ার টোক। এ গ্রামে থাকা কেউ কাকা, কেউ মেসি, কেউ বা কিংবা ম্যারাডোনারা। স্কুলের আগে ফুটবল অনুশীলনে এ এলাকার মেয়েদের ভোরের যাত্রা।
তাদের একজন নুরুননাহার। গ্রামের নাম টুক নগর। বাড়ি খুঁজে যে বাড়ি সেটাকে বাড়ি না বলাই ভালো, শুধু থাকা বলে কথা। নবম শ্রেণীতে পড়া নুরুন্নাহারের বাবা বর্গাচাষী। ক্লাস থ্রি থেকে সে ফুটবল খেলছে। সকালে প্র্যাকটিসে যাবার সময় খাবার জুটুক কিংবা না জুটুক, চার কিলোমিটার হেঁটে যেতে কোনো আপত্তি নেই। ফুটবলই তার ধ্যানজ্ঞান।
নুরুন নাহার বলেন, পায়ে যখন ফুটবল আসে তখন পৃথিবীর সবকিছু ভুলে যায় মনে হয়, আমি শুধু গোল অার গোল দিবো।
একবেলা খাবার জোটাতে হিমশিম খেলেও মেয়ের ফুটবল খেলায় উৎসাহ দিতে কমতি নেই নুরুননাহারের মা-বাবার। তবে এখনো মেয়েকে একটা ফুটবল কিনে দিতে পারেননি।
জমা কষ্টের কথাটি হাসি মুখেই জানালেন নুরুন নাহারের মা বলেন, খেয়ে না খেয়ে খেলতে থাকুক, ভালো খেললে আপনাদের কাছে যাবে। তখন তো আপনারাই দেখবেন। আমি গরীব মানুষ আর কী দেখব।
আরেক গ্রাম সালুয়াটিকি। সেই গ্রামের একজন তানজিনা, আরেকজনের নাম শারমিন হলেও সবার কাছে পরিচিতি কাকা নামে। ঠিকঠাক এক বেলা খাবারের ব্যবস্থা না থাকলেও বহুদূর যেতে চায় তারা। মেয়েদের স্বপ্ন পূরণে সাহসই তাদের মা-বাবার একমাত্র অবলম্বন।
টোক বাজার সরজুবালা বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ফুটবলকে এগিয়ে নেয়ার জন্য এগিয়ে এসেছেন এলাকার দু’জন ব্যক্তি।
টোক বাজারের সরজুবালা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, আমাদের দেশের মেয়েরা যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফুটবল খেলে এরকম ভিডিও আমার গ্রামের অভিভাবকদের দেখিয়েছি। এরপর পরই তারা মেয়েদের ফুটবল খেলায় আগ্রহী হয়েছে এবং তাদের কোনো আপত্তি নেই।
টোক বাজার সরজুবালা বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি বলেন মেয়েদের ফুটবল খেলায় উৎসাহ আছে, আমারও ইচ্ছা রয়েছে।
সরজুবালার মেয়েরা স্বপ্ন দেখছে। চোখে তাদের কলসিন্দুরের স্বপ্ন। রঙিন স্বপ্নটাকে ফ্যাকাশে হতে দিতে চায় না কেউ।
দেখুন ভিডিও








