বাংলাদেশ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনী নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে মত ঐক্য হয় বলে জানায় বাংলাদেশের মুখপাত্ররা। তবে কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রেসনোটে বিষয়টির উল্লেখ না থাকায় সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর জবাবে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন চ্যানেল আই অনলাইনের সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান।
‘খুনি নূর চৌধুরীকে ফাঁসির মঞ্চে না নিতে পারার যে উল্লাস’ শিরোনামে জাহিদ নেওয়াজ খান লিখেছেন,
“ভাইসব, আপনাদের মনের আসল ইচ্ছাটা কী? বঙ্গবন্ধুকে সরাসরি গুলি করা নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইন মোতাবেক শাস্তির মুখোমুখি করা? নাকি কানাডায় তার সুখের জীবন?
বাংলাদেশের মুখপাত্রদের যে হারে সমালোচনা শুরু করেছেন তাতে তো মনে হয়, নূর চৌধুরীকে দেশে আনা না গেলে আপনাদেরও সুখ!
খুনি নূর চৌধুরীর প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরুর বিষয়ে মুখপাত্ররা যে কথা বলেছেন তাতে ভুল কী! নিশ্চয়ই দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আলোচনায় বিষয়টি এসেছে। সেখানে সেই প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া শুরু মানে সুনির্দিষ্টভাবে শুধু এই বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু করা। সেটাই প্রক্রিয়া। সেই প্রক্রিয়ায় কানাডা তার দেশের তথাকথিত আইনের সীমাবদ্ধতার কথা বলে হয়তো নূর চৌধুরীকে প্রত্যর্পণে রাজি হবে না। সেই ইঙ্গিতও হয়তো কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী দিয়ে ফেলেছেন, যে কারণে পরে জনমত গঠনের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এই প্রশ্ন রেখেছেন যে, মৃত্যুদণ্ড নেই এমন দেশগুলো কি তাহলে খুনিদের অভয়ারণ্য হবে?
তবে, কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রেসনোটে বিষয়টির উল্লেখ না থাকা মানে এটা না যে কানাডা প্রক্রিয়া শুরু করতেই রাজি হয়নি। আবার প্রক্রিয়া শুরু মানেই যে প্রত্যর্পণ হয়ে যাবে সেরকম না বলেই হয়তো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তার ক্ষোভের কথা জানিয়েছেন।
ঘটনা যাই হোক, বাংলাদেশের মুখপাত্রদের বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণের চেষ্টা এবং কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের প্রেসনোটে বিষয়টির উল্লেখ না থাকার কথা উল্লেখ করে ফেসবুকে কথিত ক্রিটিক্যাল অবস্থানের মধ্যে নূর চৌধুরীকে ফাঁসির মঞ্চে না নিতে পারার উল্লাসটা চোখে পড়ার মতো।”








