একের পর এক খবরের পরও রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে কাইলিয়ান এমবাপের পেছনে ছুটবে না তারা। ফরাসি এ বিশ্বকাপজয়ী তারকার বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত নামগুলোর মধ্যে একটি সাদিও মানে।
দুদিন আগে রিয়াল ঘনিষ্ঠ মাদ্রিদ ভিত্তিক ক্রীড়া দৈনিক মার্কা জানায়, ফ্রেঞ্চম্যানের দিকে দৌড়াবে না লস ব্লাঙ্কোসরা। তবে সেনেগালিজ তারকা মানের দিকে তাদের আগ্রহ প্রবল এবং দ্রুতই একটা কার্যকর প্রস্তাব দেয়ার কাজ চলছে।
বার্নাব্যুতে দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেয়ার পর নিউ রিক্রুটের বিষয়ে প্রশ্ন করায় অনেকটা এড়িয়ে গেছেন জিনেদিন জিদান। যা একটু ইঙ্গিত দিয়েছেন তাও নেইমার-এমবাপেকে ঘিরেই।
এর মধ্যেই আবার মানেকে নিয়ে আলোচনা। তবে মানে বা তার প্রতিনিধি কেউই চলতি মৌসুম শেষ হওয়ার আগে ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করছেন না। বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে লিভারপুল, চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও শেষ আটে উঠেছে অলরেডরা। দুই ক্ষেত্রেই দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন মানে। ফলে হাতের বাকি কাজটা শেষ না করে কোনো দিকেই তাকাতে চাচ্ছেন না তিনি।
সম্প্রতি লিভারপুলের সাবেক তারকা জ্যামি ক্যারেগারকে ‘ইউরোপের সবচেয়ে যোগ্যতম মানুষ’ বলে বর্ণনা করেছেন মানে। সেই ক্যারেগার বলছেন, জিদানের প্রতি আসক্ত মানে। তার ভাষায়, এটা সত্যি যে, তিনি (মানে) ইয়ুর্গেন ক্লপের সাথে এখন সংযুক্ত এবং প্রতিশ্রুতিবন্ধ। তবে একইসঙ্গে ফরাসি কিংবদন্তির দিকেও মনের টান আছে তার।

২৬ বছরের মানে সম্প্রতি চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়েছেন। নতুন চুক্তি অনুযায়ী ২০২৩ পর্যন্ত অ্যানফিল্ডে থাকবেন তিনি। কিন্তু লিভারপুলে সুখে থাকা সত্ত্বেও পরিবেশ পরিবর্তন করতে ইচ্ছুক সেনেগাল সুপারস্টার।
এই বয়সের মধ্যে ভালোই ঠিকানা বদল করেছেন মানে। দুই বছর খেলেছেন ইংলিশ ক্লাব সাউদাম্পটনে। তার আগে তিন মৌসুম ছিলেন অস্ট্রিয়ান ক্লাব এফসি রেড বুলস সাল্জবুর্গে। তারও আগে এক বছর খেলেন ফরাসি মেটাজে। আর লিভারপুলেও দেখতে দেখতে তিন বছর কাটালেন।
ক্লপের সহযোগিতাতেই ক্লাব পাল্টানোর বদনাম থেকে মুক্তি পেয়েছেন মানে। কিন্তু জিদানের প্রতি তার আসক্তি বা কাজ করার ইচ্ছা আবারো তার অতীত স্মরণ করিয়ে দিতে পারে।
স্পেনের সাবেক তারকা লুইস গার্সিয়া, যিনি নিয়মিত লিভারপুলের ম্যাচ দেখেন এবং বিশ্লেষণ করেন। সাদিও মানের সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি বেশ ভালো জানেন।

লিভারপুলের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে মানের মূল্যায়ন করতে গিয়ে গার্সিয়া বলেছেন, ‘তিনি এই মৌসুমে দুর্দান্ত খেলছেন এবং শেষ কয়েকটি ম্যাচে আরো বেশি কিছু করেছেন। দুই পায়েই দুর্দান্ত, গতিও আছে। সব মিলিয়ে তার সক্ষমতা অনেক।’
বদলে যাওয়া মানেকে নিয়ে গার্সিয়া মন্তব্য, ‘কিছুদিন আগেও যেসব সুযোগ মিস করতে মানে, এখন সেগুলোর সবই গোলে পরিণত করছেন। তিনি জানেন যেকোনো দলেরই তাকে প্রয়োজন।’








