বন্দুকযুদ্ধ কিংবা ক্রসফায়ারকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ
করে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘ধর্মের বর্ম দিয়ে
জঙ্গি ঠেকানো যাবে না। আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর কাছ থেকে “ধর্মের বিরুদ্ধে আঘাত সহ্য করা হবে না” এ জাতীয় মন্তব্য এলে
তা জঙ্গিদের হাতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলোকে বৈধতা দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশে আইএস না থাকলেও তাদের অনুগামী আছে। তারাই গুপ্তহত্যা চালাচ্ছে। তাদের গুপ্তহত্যার শিকার হয়েছেন পুরোহিত, যাজক, বৌদ্ধভিক্ষু, মাজারের খাদেম, পীর, বাউল গবেষক, শিক্ষকসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষ।
“এই আক্রমণ কোনো একক সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়, সমগ্র বাংলাদেশের ওপর। এই আক্রমণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে একটি সাম্প্রদায়িক আবহ তৈরি করা হচ্ছে। এটি দুর্ভাগ্যজনকভাবে দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে।”
১৪ দলের অন্যতম শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টিরও সভাপতি আরো বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভেতরে সাম্প্রদায়িকতা ঢুকেছে। প্রশাসনের মধ্যেও তার ছাপ পড়েছে। যখনই কোনো ব্লগার নিহত হন, তখনই পুলিশ ধর্মবিরোধী কিছু লিখেছেন কি না খুঁজে বেড়ান। এটা ঠিক যে ধর্মবিরোধী কোনো কিছু লেখা উচিত নয়। তেমনি কেউ নিহত হওয়ার পর ধর্মবিরোধী লেখার বিষয়টি উচ্চারিত হলে ওই হত্যা যথার্থ হয়ে যায়।”
সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়েও বাজেট অধিবেশে কথা বলেন মেনন।
“সামরিক সরকার এবং বিএনপি-জামায়াতের ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে লড়াই করে অবাধ নির্বাচনের ঐতিহ্য আমরা কায়েম করেছিলাম। কিন্তু এবারের ইউপি নির্বাচন সে ঐতিহ্য ধ্বংস করেছে। আর নির্বাচন কমিশন বসে বসে সেই ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছে।”
নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “নির্বাচনব্যবস্থা পুনর্গঠন করা না গেলে গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। সব অর্জন
ব্যর্থ হবে। তাই নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ শক্তিশালী করতে হবে। অর্থ আর
অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণমুক্ত রাখতে হবে।”
এসময় নির্বাচন কমিশনের
সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের অর্থবহ সংলাপের প্রস্তাব রাখেন বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী।
এদিকে জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এই মুহুর্তে ১৫ হাজার মেগা ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে।
২০২১ সালের মধ্যে সকল বাড়িতে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।








