পাকিস্তানের কোয়েটা সিভিল হাসপাতালে আত্মঘাতী বোমা হামলার পিছনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW) এর হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সানাউল্লাহ জেহরি। ওই বোমা হামলায় এখন পর্যন্ত ৭০ জন নিহত হয়েছে।
হামলার পর পরই বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সানাউল্লাহ জেহরি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ কে দায়ী করলেও বেলুচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিকে দায়ী করেন। হামলার দায় স্বীকার করেছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) দলের একাংশ বলে পরিচিত জামাতুল আহরার। এরা দু’বছর আগে তালেবান থেকে বের হয়ে আলাদাভাবে তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট মামনুন হুসেইন হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ভয়াবহ হামলার ঘটনায় দোষীদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ। তিনি বলেন, কাউকেই ওই অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত করতে দেয়া হবে না। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনও হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
হামলার পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক তাদের সেফটি চেক ফিচারটি চালু করে। কোনো দুর্ঘটনা
কবলিত এলাকাতে ফেসবুক ব্যবহারকারীরা নিরাপদ আছে কিনা তা জানা যায় এই সেফটি চেকের মাধ্যমে।
কোয়েটায় হামলার পর পাকিস্তানের অন্যত্রও আতঙ্ক ছড়িয়ে গেছে। সিন্ধু প্রদেশে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরবর্তী হামলার লক্ষ্য করাচি হতে পারে বলে ধারণা করছে পাকিস্তানের গোয়েন্দারা।
গত দেড় দশকে টার্গেট কিলিং বা আত্মঘাতী হামলায় বেলুচিস্তানে দেড় হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে দেশটির বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে।
সোমবার সকালে গুলি করে হত্যা করা হয় বেলুচিস্তান আইনজীবী সমিতির সভাপতি বিলাল আনোয়ার কাসিকে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তার সহকর্মীরা। সেখানেই তিনি মারা যান।
কাসির মৃতদেহের পাশে ভীড় জমিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সহকর্মী আইনজীবীরাসহ বহু সাংবাদিক। ঠিক তখনই ভীড়ের মাঝে জঙ্গিরা শক্তিশালী বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় হাসপাতাল চত্বরে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই আরেক হামলাকারীকে গুলিও ছুঁড়তে দেখা যায়।








